চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরে মো. ইয়াসিনের নামে থাকা জমি বিক্রির দলিল নিবন্ধন নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বদলির আগে এক দিনে ৬৫টি জমির বিক্রয় দলিল নিবন্ধনের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। তবে সরবরাহ করা সরকারি বালাম বইয়ের তথ্য পর্যালোচনায় দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ পাওয়া গেছে।
ইয়াসিনের নামে থাকা ৬৫টি জমির বিক্রয় দলিল নিবন্ধন করেছেন সীতাকুণ্ডের সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব। ইয়াসিনের নামে থাকা ২৭৮ শতক জমি ৭৪টি দলিলে বিক্রির তথ্য উঠে এসেছে। এসব জমির আনুমানিক বাজারমূল্য শতকোটি টাকার কাছাকাছি বলেও জানা গেছে ।
সরকারি বালাম বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৪৮১৮ থেকে ৪৮৮২ নম্বর পর্যন্ত ৬৫টি দলিল ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এবং ৫১২৫ থেকে ৫১৩৩ নম্বর পর্যন্ত আরও ৯টি দলিল একই বছরের ১ অক্টোবর নিবন্ধিত হয়েছে। অর্থাৎ, নথিতে দলিল নিবন্ধনের একাধিক তারিখের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এক দিনে ৬৫টি দলিল নিবন্ধনের অভিযোগ এবং বালাম বইয়ের তারিখের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব দাবি করেছেন, ভূমি অফিসের নথি অনুযায়ী জমিগুলো ইয়াসিনের নামে নামজারি করা ছিল এবং ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করেই আইন অনুযায়ী দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর আইন মন্ত্রণালয়কে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সীতাকুণ্ডের ইউএনও ফখরুল ইসলামও সাব-রেজিস্ট্রারকে ডেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
সব মিলিয়ে ইয়াসিনের জমি নিবন্ধন নিয়ে ওঠা অভিযোগ ও সরকারি বালাম বইয়ের তথ্যের মধ্যে থাকা পার্থক্য দূর করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা । মূল দলিল, ভূমি রেকর্ড ও নিবন্ধনসংক্রান্ত সব নথি যাচাইয়ের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত তথ্য।
পড়ুন : পূর্বধলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে মদ্যপ অবস্থায় যুবকের সাজা


