ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও কর্মচারীরা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী কালীগঞ্জ শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ডে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। ফলে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
দুই ঘণ্টা পর কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদের ইতিবাচক আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারীদের সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন। সেখানে তারা প্রায় ৩০ মিনিট শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ৬ লেন প্রকল্পের জন্য তাদের দোকানপাট ও জীবিকার একমাত্র উৎস উচ্ছেদ করা হলেও প্রশাসন বা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান বা যৌক্তিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়নি। ফলে শত শত ব্যবসায়ী ও তাদের অধীনে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বক্তারা আরো বলেন, এই একই প্রকল্পের আওতায় যশোর জেলার অংশে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করলেও ঝিনাইদহ জেলার অংশে তা প্রদান করা হয়নি। এ বিষয়ে তাঁরা ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও কোনো জবাব পাননি। এই বৈষম্য নিরসনের দাবি জানান তাঁরা। ক্ষতিপূরণের জন্য সরকার যে বরাদ্দ দিয়েছিল তা কোন চক্র বা কর্মকর্তা আত্মসাৎ করেছে কিনা তা তদন্ত করা ও অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় আনার আহবান জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা অপসারণ করতে দেয়া হবে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে কালীগঞ্জ অংশে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়া হবে না।
মানববন্ধন শেষে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা মহাসড়কের ওপর বসে পড়েন এবং রাস্তা অবরোধ করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের কারণে ঝিনাইদহ-যশোর ও কালীগঞ্জ-জীবননগর রুটে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এই দুই সড়কে আটকা পড়ে শত শত যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক।
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার অনুরোধ জানান। তবে আন্দোলনকারীরা তাদের সুনির্দিষ্ট দাবি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি আশ্বাস ছাড়া রাস্তা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। ফলে ওসি জুলফিকার আলী সড়ক থেকে অবরোধকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে দিতে ব্যর্থ হন।
পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ। তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে। তিনি খুব দ্রুত অংশীজনদের সাথে বসে আইনগতভাবে একটি যৌক্তিক ও ন্যায্য সমাধানের আশ্বাস দেন।
পড়ুন : ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯২৯


