বিয়ের খবরই জানেন না সাক্ষীরা, কাবিন-নামায় তাঁদের স্বাক্ষর!

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিবাহবিচ্ছেদের ২৬ দিনের মাথায় একই নারীকে পুনরায় বিয়ে নিবন্ধন করেছেন এক ব্যক্তি। তবে দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ থাকা তিনজন দাবি করেছেন, তাঁরা ওই কাবিননামায় স্বাক্ষর করেননি। এমনকি বিয়ের বিষয়েও তাঁরা অবগত ছিলেন না। এ ঘটনায় দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া গ্রামের মৃত সাহেব আলী সিকদারের ছেলে আবুল ফজল একই ইউনিয়নের কোর্ট বহুরিয়া গ্রামের মৃত ছলুম উদ্দিনের মেয়ে মোসাম্মৎ সালেহা বেগমকে (ছাবিহা) এক লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। ২০১৬ সালের ৯ জুন ৯ নম্বর বহুরিয়া ইউনিয়নের মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধক কাজী মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার সহকারী মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে নিবন্ধিত হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ১৬ জুন আবুল ফজল তাঁর স্ত্রী ছাবিহাকে তালাক দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তালাকের মাত্র ২৬ দিন পর, একই বছরের ১২ জুলাই ওই সহকারী কাজী নুরুল ইসলামের মাধ্যমে তাঁরা পুনরায় বিয়ে নিবন্ধন করেন।

দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের কাবিননামার মতোই দেনমোহরের পরিমাণ এক লাখ টাকা রাখা হয়েছে। তবে দুই কাবিননামায় সাক্ষীদের নাম ও পরিচয়ে পার্থক্য রয়েছে। দ্বিতীয় কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বহুরিয়া গ্রামের কয়েদ আলীর ছেলে করিম মিয়া, একই গ্রামের ফজু সিকদারের ছেলে খালেক সিকদার এবং ছাবিহা বেগমের ছোট ভাই মো. নূর ইসলামকে। এ ছাড়া নূর ইসলামকে কনের উকিল হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা তিনজনের মধ্যে দুজন ও কনের আপন ছোট ভাই দাবি করেছেন, তাঁরা বিয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন না। কাবিননামায় থাকা স্বাক্ষরও তাঁদের নয়। বিষয়টি জানার পর তাঁরা আদালতে গিয়ে হলফনামা (এফিডেভিট) করেছেন বলেও জানান। তাঁদের দাবি, তাঁদের অজ্ঞাতে নাম-ঠিকানা ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আইন অনুযায়ী, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭ ধারায় তালাক উচ্চারণের পর সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত নোটিশ পৌঁছানোর তারিখ থেকে ৯০ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত সাধারণভাবে তালাক কার্যকর হয় না। এর আগে তালাক প্রত্যাহার করা হলে বিষয়টি ভিন্ন। একই ধারার ৬ উপধারায় তালাক কার্যকর হওয়ার পর একই স্বামী-স্ত্রীর পুনরায় বিয়ের সুযোগের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে তালাকের নোটিশ সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছানোর তারিখ হিসেবে ১৯ জুন ২০২২ উল্লেখ রয়েছে। ফলে তালাকের মাত্র ২৬ দিনের মাথায় পুনরায় বিয়ে নিবন্ধনের আইনগত ভিত্তি কী ছিল, দ্বিতীয় কাবিননামায় সাক্ষীদের স্বাক্ষরের সত্যতা এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাজীর সহকারী মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।

মির্জাপুর উপজেলা নিবন্ধিত কাজী সমিতির সভাপতি কাজী আবুল হাশেম বলেন, তালাক দেওয়ার ২৬ দিনের মাথায় পুনরায় বিয়ে নিবন্ধনের আইনি যৌক্তিকতা আমার জানা নেই। কাবিন-নামায় উল্লেখিত তিন সাক্ষী স্বাক্ষর অস্বীকার করার বিষয়ে তিনি আরো বলেন, এমনটি হয়ে থাকলে ওই কাবিন-নামাটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কালিয়াকৈরে ৫ ঘণ্টা পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন