মোংলায় পুলিশ-কোস্টগার্ডের অভিযান: বিপুল পরিমাণ চোরাই তেলসহ ট্রলার ও লরি জব্দ

‎মোংলা সমুদ্র বন্দর সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে জ্বালানি তেল পাচারের একটি বড় চক্রের সন্ধান মিলেছে। সোমবার গভীর রাতে মোংলা থানা পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের এক শ্বাসরুদ্ধকর যৌথ অভিযানে মবিল সদৃশ চোরাই জ্বালানিসহ একটি স্টিল বডি ট্রলার এবং ১০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি লরি জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযানের খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মূল হোতারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এদিকে স্পট থেকে কোনো চোরাকারবারিকে আটক করতে না পারায় স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের দানা বেঁধেছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এই বিশাল সিন্ডিকেট দিনের পর দিন বন্দরভিত্তিক জ্বালানি চুরির সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে!
‎
‎অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, সোমবার দুপুরে মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের হলদিবুনিয়া এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের খালের জলপথ ব্যবহার করে এই অবৈধ কারবার চলছিল। একটি বিশাল স্টিল বোটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তেল এনে খালাস করা হচ্ছিল নির্জন ওই এলাকায়। এ সময় মূলত তেলবাহী ট্রলারটিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে আসা আরেকটি ট্রলার দ্রুত জলপথ ধরে সটকে পড়ে।

‎তেল বোঝাই ট্রলারটি নোঙরের কিছুক্ষণ পরই সেখানে এসে হাজির হয় ‘পদ্মা অয়েল কোম্পানি’র লোগোযুক্ত ১০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি বিশালাকার লরি (যার একটির নম্বর— খুলনা মেট্রো ঢ- ৪১০৪৮৫, এবং অপরটির নম্বর— চট্টগ্রাম মেট্রো ঢ – ৪১-০১৭৯)। আধুনিক ডিজেল পাম্প দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ট্রলার থেকে লরিতে তেল লোড করার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। চোরাকারবারিদের এমন তৎপরতা দেখে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক প্রশাসনকে অবহিত করেন।

‎খবর পেয়ে মংলা থানা পুলিশ ও কোস্টগার্ড পশ্চিমজনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ‎যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চোর চক্রের সদস্যরা সব যন্ত্রপাতি ফেলে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে লোকালয়ে মিলিয়ে যায়। বর্তমানে জব্দকৃত ট্রলারটি তেল বোঝাই অবস্থায় মোংলা ফেরিঘাটে এনে রাখা হয়েছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জব্দকৃত বিশালাকার লরি দুটি এখনো থানায় আনা সম্ভব হয়নি। লরি দুটি এখনো হলদিবুনিয়া এলাকায় ঘটনাস্থলেই পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের কড়া পাহারায় ও নজরদারিতে রয়েছে।
‎
‎প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় , জব্দকৃত লরি দুটির মালিক চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো: হারুন মিয়া নামের এক পরিবহন ব্যবসায়ী। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই তেল চোরাচালানের পেছনে মংলার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা চট্টগ্রামের একটি বড় চোরাকারবারী চক্রের সাথে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। মূলত মোংলা বন্দরে নোঙর করা বিদেশি জাহাজ এবং দেশের বিভিন্ন তেলবাহী ট্যাংকার থেকে গোপনে তেল সরিয়ে এই চোরাই সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে, যা প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অন্যতম কারণ।

‎এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আতিকুর রহমান বলেন, “চোরাই তেল ও যানবাহন জব্দের ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, কি পরিমান তেল জব্দ করা হয়েছে তা এখনো নিরুপন করা সম্ভব হয়নি। তেল পরিমাপ ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মহেশপুর সীমান্তের ধানখেত থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন