গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে ছবি ধারণ করায় বর্বরোচিত হামলার শিকার তৌফিক (১৭) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ সকালে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত তৌফিক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে এবং ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি গাজীপুরে অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের বাংলা বাজার এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলা আন্দোলন যখন উত্তাল, তখন তৌফিক সেই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন। আন্দোলন চলাকালে শ্রমিকদের ওপর হঠাৎ হামলা চালানো হয়। তৌফিক সাহসিকতার সঙ্গে সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ছবি তোলার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে আন্দোলনরত সহকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা রক্তাত্ব অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে চলে যান তরুণ এই শিক্ষার্থী।
তৌফিকের মৃত্যুর সংবাদটি তাঁর গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পৌঁছালে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একমাত্র সন্তান ও সম্ভাবনাময় তরুণ শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ মা-বাবা ও স্বজনরা। এছাড়া তাঁর সহপাঠী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পড়ুন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস চাপায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার চালক-যাত্রী নিহত


