মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা সানিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মেহেরপুরে বকেয়া ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি নাহিদ মাহাবুব সানি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সানিকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তারিকুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মেহেরপুরের বিজ্ঞ আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন তিনি। মামলার নম্বর ১৩০৪/২৬। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মেহেরপুরের দীঘিরপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে মিঠন, শাহাজুলের ছেলে শাকিল, সিদ্দিকের ছেলে রবি, তারিক ও শফি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী তারিকুল ইসলামের কাছে আসামিরা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ট্রাক আটকে দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে দুই দফায় ৩০ হাজার টাকা দেন তিনি। এরপরও বাকি ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে আর চাঁদা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর ব্যবসায়ী তারিকুল ইসলাম বিএডিসির সামনে নিজের কাজে গেলে আসামিরা তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারিকের চায়ের দোকানের ভেতরে থাকা একটি কক্ষে নিয়ে যান। ওই কক্ষটি প্রধান আসামি নাহিদ মাহাবুব সানির ‘টর্চার সেল’ হিসেবে পরিচিত বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেখানে বকেয়া চাঁদার টাকা দাবি করলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় প্রধান আসামি নাহিদ মাহাবুব সানি জিআই পাইপ দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে অন্য এক আসামি লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। তিনি বাম হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করলে কনুইয়ের ওপর গুরুতর জখম হয়। অন্য আসামিরাও তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা নির্যাতনের একপর্যায়ে তারিকুল জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে আসামিরা তাঁকে অচেতন অবস্থায় দোকানের পাশে ফেলে চলে যান। পথচারী এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ২৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসামিরা তাঁকে মামলা না করার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। প্রাণভয়ে চিকিৎসা সম্পূর্ণ না করেই তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে চলে আসেন।

মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার সানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

পড়ুন : গাজীপুরে গার্মেন্টস আন্দোলন: ছবি তুলতে গিয়ে হামলার শিকার গাইবান্ধার তৌফিকের মৃত্যু

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন