নদীর বুকে তখনো ভোরের স্নিগ্ধতা পুরোপুরি কাটেনি। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সকাল ৬টা। এমন শান্ত সময়েই নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার ধনু নদীতে আকস্মিক উপস্থিত হয় উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। মূল লক্ষ্য- নৌপথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের নীরব আতঙ্ক ‘চাঁদাবাজি’র অবসান ঘটানো। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা মেন্দিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী ধনু নদীতে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন খালিয়াজুরীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জামান।
জীবিকার তাগিদে পণ্য বা যাত্রী নিয়ে চলাচলকারী নিরীহ নৌযান শ্রমিকদের কাছে চাঁদাবাজরা ছিল এক মূর্তিমান আতঙ্ক। এদিন প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়েই নাটকীয়ভাবে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে চাঁদাবাজরা তাদের ব্যবহৃত নৌকাটি নদীর পানিতে রেখেই লাফ দিয়ে সাঁতরে পালিয়ে যায়। অপরাধীরা গা ঢাকা দিলেও ঘটনাস্থল থেকে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত সেই নৌকাটি জব্দ করতে সক্ষম হয় অভিযানিক দল। ভোরে চালানো অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ ও নৌ-শ্রমিকদের মাঝে দারুণ স্বস্তি ফিরে আসে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনও অলিদুজ্জামান দৃঢ় বার্তায় জানান, নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। ধনু নদীকে যেকোনো মূল্যে সম্পূর্ণ চাঁদাবাজমুক্ত রাখা হবে। খেটে খাওয়া মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও জীবিকা রক্ষায় ভবিষ্যতেও এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের সময়োপযোগী পদক্ষেপে নৌপথে পরিবহন মালিকসহ নদীপাড়ের মানুষ ও মাঝিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পড়ুন : চারদিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধের খবর গুজব : পেট্রোবাংলা


