কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা: সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাট পার্টি। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। নির্বাচনে দলটির এই সাফল্যের ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক তদন্ত ও তদারকি চালানোর ক্ষমতা পেতে যাচ্ছে বিরোধী দলটি। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিসের সামনে প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সিএনএনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রাথমিক ফলাফলে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ২৪০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের অনেক আসনের ফল এখনো নিশ্চিত হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত দলটি কত আসনে জয় পাবে এবং তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কতটা শক্তিশালী হবে, তা নির্ভর করছে বাকি আসনগুলোর ফলাফলের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। কারণ নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, নীতি ও কর্মকাণ্ডের ওপর তদন্ত এবং নজরদারি চালানোর সুযোগ পাবে দলটি।

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর এই জয় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচনের ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় দলটির নেতৃত্বেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে রয়েছেন। নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে প্রতিনিধি পরিষদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পূর্বাভাস পাওয়া গেলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এরই মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এর মধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে আসন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য।

এদিকে জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জয়ের মধ্যে কিশা ল্যান্স বটমসের গভর্নর নির্বাচিত হওয়া বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এই জয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সিনেটর জন ওসফের সম্ভাব্য প্রার্থিতার পথও সহজ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ওসফ নিজেও সিনেটে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। যদিও এর আগে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহের কথা অস্বীকার করেছিলেন। এ পদে তাঁর ‘আগ্রহ নেই’ বলেও জানিয়েছিলেন। তবে জর্জিয়ার গভর্নর পদে একজন ডেমোক্র্যাট নির্বাচিত হওয়ায় ভবিষ্যতে সিনেটের আসনটি নিজেদের দখলে রাখার জন্য দলটির নতুন প্রার্থী মনোনয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এবারের নির্বাচনে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সামাজিক ও সাংবিধানিক বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে। ভার্জিনিয়ার ভোটাররা এমন একটি সংশোধনী অনুমোদন করেছেন, যার ফলে অঙ্গরাজ্যটিতে গর্ভপাতের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।

নেভাদা ও আইডাহোতেও একই ধরনের সংশোধনী ব্যালটে রয়েছে। তবে এসব সংশোধনীর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত পূর্বাভাস দেয়নি সিএনএন।

অন্যদিকে নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থিত কয়েকজন প্রার্থী চাপে থাকলেও হোয়াইট হাউস প্রেসিডেন্টের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ব্যালটে থাকা অনেক প্রার্থীর প্রচারে প্রার্থীরা নিজেরা যতটা ভূমিকা রেখেছেন, তার চেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন ট্রাম্প।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের মধ্যে এখনো ২৪৯টি আসনের ফলাফলের পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। ফলে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে এসব আসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডেমোক্র্যাট দলের দুজন জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক ফলাফলে দলটি প্রতিনিধি পরিষদে অন্তত ২৩০টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প দুই অঙ্কের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন, এমন দুটি আসনেও এবার এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। আসন দুটি হলো ইন্ডিয়ানার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট এবং ফ্লোরিডার নবম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট। এই আসনগুলোতে জয় ধরে রাখতে পারলে ডেমোক্র্যাটদের মোট আসনসংখ্যা ২৪০-এর কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সব আসনের ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অঙ্গরাজ্যভেদে ভোট গণনার পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় কোনো কোনো আসনের ফল দ্রুত জানা গেলেও কিছু আসনের ক্ষেত্রে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের সূত্রগুলো বলছে, ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা বাড়ার বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত পূর্বাভাস দেওয়ার সময় আসেনি।

সব মিলিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বিরোধী দলের নজরদারি বাড়ার পাশাপাশি হাকিম জেফরিসের স্পিকার হওয়ার সম্ভাবনা এবারের নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

পড়ুন:মহাকাশ থেকে ভোট দিলেন তিন মার্কিন নভোচারী

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন