দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে। একটি তেলুগু ছবিতে তাঁর অভিনীত চরিত্রকে বিয়ে করতে হয়েছিল নিজের মামাকেই। শুধু তাই নয়, নিজের চেয়ে অনেক বেশি বয়সী এক অভিনেতার সঙ্গে প্রেমের দৃশ্যেও অভিনয় করতে হয়েছিল তাঁকে। ছবির গল্প থেকে শুরু করে শুটিংয়ের পরিবেশ—কোনো কিছুই ভালো লাগেনি অভিনেত্রীর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণী সিনেমায় কাজ করার সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন তিনি। এরপরই তাঁর মন্তব্য ঘিরে চলচ্চিত্র অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
সাক্ষাৎকারে রাধিকা জানান, তেলুগু একটি সিনেমায় অভিনয়ের সময় তাঁকে এমন একটি চরিত্রে কাজ করতে হয়েছিল, যার গল্পের সঙ্গে তিনি মানসিকভাবে একমত হতে পারেননি। গল্পের বিষয়বস্তু এবং চরিত্রের সম্পর্কের ধরন তাঁর কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অভিনেত্রী বলেন, ‘একটি তেলুগু ছবিতে অভিনয় করেছিলাম। সেখানে নিজের মামাকে বিয়ে করতে হয়েছিল আমার চরিত্রটিকে। ছবিটিতে অভিনয় করা আমার কাছে ভীষণ কঠিন ছিল। ওই ছবির কোনও কিছুই আমার ভালো লাগেনি।’
শুধু সিনেমার গল্প নয়, সহশিল্পীর বয়সের ব্যবধান এবং শুটিংয়ের পরিবেশ নিয়েও অসন্তুষ্ট ছিলেন রাধিকা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের তুলনায় অনেক বেশি বয়সী এক অভিনেতার সঙ্গে প্রেমের দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়েছিল তাঁকে। পুরো বিষয়টি তাঁর কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল।
এ বিষয়ে রাধিকা বলেন, ‘আমাকে নিজের থেকে অনেক বেশি বয়সী এক অভিনেতার সঙ্গে প্রেমের দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়েছিল। গোটা বিষয়টির মধ্যে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা কাজ করছিল। সেই পরিবেশে কাজ করাই ছিল আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন।’
অভিনেত্রীর এই বক্তব্যে দক্ষিণী চলচ্চিত্রের কিছু প্রচলিত গল্প ও নারী চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সিনেমায় নারী অভিনেত্রীদের চরিত্র নির্বাচন, বয়সের ব্যবধান এবং কাজের পরিবেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
রাধিকা আপ্তে তাঁর সাক্ষাৎকারে সিনেমাটির নাম সরাসরি প্রকাশ করেননি। তবে তাঁর বক্তব্য সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ধারণা করছেন, তিনি ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া তেলুগু সিনেমা ‘লেজেন্ড’-এর কথা বলেছেন।
নন্দমুরি বালকৃষ্ণ অভিনীত এই সিনেমায় তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন রাধিকা। ফলে অভিনেত্রীর মন্তব্যের পর ছবিটি এবং সংশ্লিষ্ট অভিনেতাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে বালকৃষ্ণের অনুরাগীদের একাংশ রাধিকার বক্তব্যের সমালোচনা করছেন। তাঁদের দাবি, কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য বা সহশিল্পীর বয়স নিয়ে আপত্তি থাকলে কাজ শুরুর আগেই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত ছিল।
রাধিকার মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদল তাঁর অভিজ্ঞতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, একজন অভিনেত্রীর নিজের চরিত্র ও কাজের পরিবেশ নিয়ে মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।
অন্যদিকে সমালোচকদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, সিনেমার গল্প বা সহশিল্পীর বয়স নিয়ে আপত্তি থাকলে তিনি শুরুতেই কেন কাজটি গ্রহণ করেছিলেন।
একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘যে ছবিটির কথা বলা হচ্ছে, সেটি ২০১৪ সালের লেজেন্ড। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন নন্দমুরি বালকৃষ্ণ। তবে চিত্রনাট্য বা নায়কের বয়স নিয়ে সমস্যা থাকলে ছবিটি করার আগেই তা বলা উচিত ছিল।’
আরেকজন রাধিকার বক্তব্যের সমালোচনা করে লিখেছেন, অভিনেত্রী আদিল হুসেনের সঙ্গে ‘পার্চড’ সিনেমায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন। সেখানে বয়সের ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। শুধু দক্ষিণী সিনেমার বালকৃষ্ণ বা রজনীকান্তের মতো অভিনেতাদের বয়স নিয়ে আপত্তি তোলার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন করেছেন ওই ব্যবহারকারী।
তবে রাধিকার বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, একটি সিনেমার গল্প ও কাজের পরিবেশ তাঁর কাছে কতটা অস্বস্তিকর ছিল। তাঁর এই অভিজ্ঞতা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এখন পর্যন্ত দুই পক্ষেরই নানা মত সামনে আসছে।
বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমা—দুই অঙ্গনেই কাজ করেছেন রাধিকা আপ্তে। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে নিজের স্পষ্ট মতামত প্রকাশের জন্যও পরিচিত তিনি। এবার দক্ষিণী সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর খোলামেলা বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে চলচ্চিত্রের পর্দার আড়ালের নানা বিষয়।
পড়ুন:সাহসী দৃশ্যে আপত্তি নেই কৃতি স্যাননের
ইমি/


