দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৩৮৩ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা ডলারের হিসাবে ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস বা মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৩৮৩ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল-৬ (বিপিএম-৬) অনুযায়ী দেশের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫১৫ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, এর আগের দিন অর্থাৎ ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ৪৩০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৫৬২ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার।
সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে দেশের গ্রস রিজার্ভ কমেছে ৪৭ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ কমেছে ৪৬ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার।
মূলত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই রিজার্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা মূল্যায়নেও রিজার্ভের পরিমাণ বিবেচনা করা হয়।
তবে গ্রস রিজার্ভ ও আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গ্রস রিজার্ভের হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মোট সম্পদ অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্যদিকে, বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের হিসাব করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত কিছু মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। ফলে দুই পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ এক হয় না।
এদিকে, নিট বা প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলে নিট রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়। অর্থাৎ, বৈদেশিক মুদ্রার মোট সম্পদের বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি দায় বিবেচনায় নিয়েই প্রকৃত রিজার্ভের হিসাব করা হয়।
অর্থনীতিবিদদের কাছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণের পাশাপাশি এর ধারাবাহিকতা ও ব্যবহারযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকলে আমদানি ব্যয় পরিশোধ এবং বৈদেশিক লেনদেনের চাপ সামাল দেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার থাকলেও আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে তা ৩১ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের দিনের তুলনায় উভয় হিসাবেই রিজার্ভে সামান্য পতন হয়েছে।
পড়ুন:ভরিতে বেড়েছে কত? আজ দেশে যত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ
ইমি/


