২০৩০ সালে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফির দেখা পাবে ব্রাজিল’

২০২৬ বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়েছে। তবে আগামী বিশ্বকাপেই সেই আক্ষেপ ঘুচবে বলে আশাবাদী দেশটির ফুটবল কিংবদন্তি ও সাবেক অধিনায়ক কাফু। তার বিশ্বাস, ২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের দারুণ সুযোগ রয়েছে। নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলটি সঠিক পথে এগোলে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

বিজ্ঞাপন

২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে না পারায় হতাশ হতে হয়েছিল কোটি কোটি সমর্থককে। রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও অধরাই থেকে যায় সেলেসাওদের। তবে অতীতের ব্যর্থতা ভুলে নতুন করে দল গঠনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করছেন কাফু।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের আশাবাদের কথা জানান সাবেক এই ডিফেন্ডার। তার মতে, ২০৩০ বিশ্বকাপের আগে কোচ কার্লো আনচেলত্তি দলকে নতুনভাবে সাজানোর যথেষ্ট সময় পাবেন। সেই সময়কে কাজে লাগাতে পারলে ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এদিকে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। তার অবসর প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন কাফু। জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের অবদানকে সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই একসময় জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হয়। তবে নেইমারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ছিল সফল এবং তিনি ব্রাজিলের ফুটবলে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

নেইমার প্রসঙ্গে কাফু বলেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে সবারই একসময় অধ্যায় শেষ হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তার এই অধ্যায়টি ছিল সফল। সে নিজের ছাপ রেখে গেছে, বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের হয়ে ইতিহাস গড়েছে। ব্রাজিলের হয়ে তার পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য। জাতীয় দলে তার সময়টা ছিল খুব সম্মানজনক।’

ব্রাজিলের জার্সিতে ১৩০ ম্যাচ খেলে ৮০ গোল ও ৫৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন নেইমার। জাতীয় দলের হয়ে তার একমাত্র শিরোপা ছিল ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপ। দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা ছিলেন এই তারকা। তবে তার বিদায়ের পর এখন নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের ঘিরেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে দলটিকে।

নেইমারের অধ্যায় শেষ হলেও ব্রাজিলের ফুটবল প্রতিভার অভাব নেই বলে মনে করেন কাফু। তার মতে, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে তরুণদের সমন্বয় ঘটাতে পারলে শক্তিশালী একটি দল গড়ে তোলা সম্ভব। বিশেষ করে ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি।

ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে খেলেছেন কাফু। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ইতালিয়ান কোচের সামর্থ্য সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে তার। তাই আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী সাবেক এই অধিনায়ক।

কাফু বলেন, ‘আমার পূর্ণ বিশ্বাস যে, ২০৩০ সালের চিত্রটা পুরোপুরি ভিন্ন হবে। ব্রাজিলের সেই বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ ও বাস্তব সম্ভাবনা থাকবে। এটি একটি নতুন অধ্যায়, নতুন প্রকল্প। আনচেলত্তি এখন কাজ করার এবং তার কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন।’

২০২৫ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বিশ্বকাপ থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পরও ২০৩০ সাল পর্যন্ত দলের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে দল পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগ দিয়েছেন এই ইতালিয়ান কোচ। সাম্প্রতিক সময়ে ফিফার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে নতুন ও তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে তাদের সামর্থ্য যাচাই করছেন তিনি।

আগামী দিনের শক্তিশালী দল গঠনের লক্ষ্যে জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আসন্ন প্রীতি ম্যাচের দলেও নতুন মুখ রেখেছেন আনচেলত্তি। অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে দলের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের কৌশল ও খেলার ধরন অনুযায়ী খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন।

আনচেলত্তির এই পরিকল্পনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কাফু। তার মতে, ব্রাজিলের মতো বড় দলের ক্ষেত্রে নিয়মিত দল পুনর্গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শুধু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য পাওয়া কঠিন। নতুন প্রতিভাদের যথাযথ সুযোগ ও অভিজ্ঞতা দিতে পারলে ভবিষ্যতে তারা জাতীয় দলের বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

দল পুনর্গঠন প্রসঙ্গে ৫৬ বছর বয়সী কাফু বলেন, ‘দল পুনর্গঠন সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ব্রাজিল জাতীয় দলের ক্ষেত্রে। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি এই তরুণদের নিয়ে ব্রাজিল দলের মধ্যে সঠিক বোঝাপড়া গড়ে তোলা সম্ভব।’

০২৬ বিশ্বকাপের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে নতুন লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চায় ব্রাজিল। নেইমারের বিদায়ের পর নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজানো এবং আনচেলত্তির কৌশল বাস্তবায়নই এখন সেলেসাওদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। কাফুর বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা ও দলীয় সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ বিশ্বকাপেই দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারে ব্রাজিল।

পড়ুন:সিরিজ বাঁচানোর টেস্টে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে মুশফিক-তাসকিন

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন