লং মার্চ কিংবা ফাঁকা সিলিন্ডার প্রদর্শন করে দেশের সাধারণ মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আন্দোলনের হুমকি-ধমকির পথ পরিহার করে সংসদে এসে কথা বলুন অথবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসে দেশ পরিচালনায় সরকারের প্রতি গঠনমূলক পরামর্শ দিন। সরকার সব সময় বিরোধী দলের ইতিবাচক সহযোগিতা কামনা করে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মেলায় তুরস্ক, জার্মানি, ভারতসহ ১২টি দেশের প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠান ৪৭৩টি স্টলে তাদের প্রযুক্তি ও পণ্য প্রদর্শন করছে।
বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, লং মার্চ করে যদি গ্যাস, বিদ্যুৎ বা মসুর ডালের ঘাটতি পূরণ করা যেত, তবে সবচেয়ে বড় লং মার্চটি সরকারপক্ষই আয়োজন করত। বর্তমান সরকারকে জনগণ পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্দিষ্ট এই মেয়াদ শেষে ব্যালটের মাধ্যমেই জনগণ সরকারের কাজের মূল্যায়ন করবে।
অনুষ্ঠানে দেশের কৃষি অর্থনীতি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মীর শাহে আলম। তিনি জানান, বেকারি, বস্ত্রশিল্প, ওষুধ ও গ্লুকোজ উৎপাদনে ব্যবহৃত স্টার্চ পাউডার আমদানিতে প্রতি বছর দেশের প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চলে যায়। অথচ দেশে উদ্বৃত্ত আলু অনেক সময় অব্যবহৃত থেকে নষ্ট হয়। এই আলু কাজে লাগিয়ে উত্তরাঞ্চলে আট থেকে দশটি স্টার্চ উৎপাদনের শিল্প কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যার মাধ্যমে বিশাল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব। হবিগঞ্জে ইতোমধ্যে সীমিত পরিসরে এমন একটি উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পাশাপাশি, উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো সুবিধাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। ভোলার গ্যাস অনুসন্ধান, ৫২টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা এবং ফর্টিফাইড আটা-চাল বাজারজাতকরণের নীতিমালার বিষয়গুলোও তিনি তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে কৃষি গবেষকদের মেধা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের ওপর জোর দেন মীর শাহে আলম। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশের মেধাবী গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়টি এতদিন অবহেলিত ছিল। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অনুধাবন করেছেন এবং গবেষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ তাদের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
পড়ুন : মোংলায় আরও শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী
সা/


