৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতি অঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেশের ইতিহাস, রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করতে জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়।
চাঁদপুর শহরের স্থানীয় মনিরা ভবনে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় শতাধিক শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগীরা নিজেদের সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতি অঙ্কন করে। প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম সলিমুল্লাহ সেলিম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান শফিকুজ্জামান, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, হযরত আলী ঢালী, মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট কোহিনুর চৌধুরী, সহ-সভাপতি সেলিনা রহমান লিপি, শিরিন সুলতানা মুক্তা, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান আকাশ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাঁদপুর রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারি ফয়সল গাজী বাহারসহ জেলা ও বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি দেশের ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং জাতীয় নেতৃত্ব সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে অবহিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশু-কিশোরদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে হবে। এর মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম, সৃজনশীলতা এবং জাতীয় ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে উঠবে।
বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তাঁর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন। তাঁরা বলেন, দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হলে শিশু-কিশোররা ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় সম্পর্কে আরও আগ্রহী হয়ে উঠবে।
আয়োজকরা জানান, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইতিহাস ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। একই সঙ্গে চিত্রাঙ্কনের মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শিশুদের আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাও এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
তাঁরা আরও জানান, প্রতিকৃতি অঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণ তাঁদের উৎসাহিত করেছে। এ ধরনের আয়োজন শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতি চর্চায় উদ্বুদ্ধ করবে। ভবিষ্যতেও নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।
পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। এ সময় আয়োজক, অতিথি, অভিভাবক এবং দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : অধ্যক্ষের পদত্যাগ ও পুলিশি হামলার প্রতিবাদে আজিমপুরে সড়ক অবরোধ
সা/


