সবুজ সবজিতে ভরেছে মাঠ, উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই আগাম শীতকালীন সবজিতে সবুজ হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জের মাঠ। জেলার নয়টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলাসহ নানা ধরনের সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনে আশাবাদী তারা। তবে সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের বাড়তি দামে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। ফলে ভালো ফলন হলেও শেষ পর্যন্ত ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। কোথাও শিমের মাচায় ফুল ও ফল ধরেছে, আবার কোথাও বেড়ে উঠছে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার চারা। আগাম সবজি বাজারে তুলতে জমিতে পরিচর্যা, সেচ ও আগাছা পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকায় তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়। এবার অনেক জমিতে সবজির ফলনও ভালো হয়েছে। তবে সার, বীজ, ওষুধ ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। গত দুই বছর ধরে উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন অনেক কৃষক। তাই এবার ভালো ফলনের পাশাপাশি লাভের মুখ দেখার প্রত্যাশা তাদের।

বিজ্ঞাপন

কৃষকরা জানান, এলাকার অনেক জমিতে বন্যার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকায় আগাম সবজি চাষে সুবিধা হচ্ছে। বিশেষ করে শিমের ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজারে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্যমূল্য না পেলে আবারও লোকসানে পড়তে হতে পারে তাদের। এ অবস্থায় কৃষি উপকরণের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা, সহজ শর্তে সুদমুক্ত ঋণ এবং উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। উন্নত জাতের সবজি চাষ, রোগবালাই দমন এবং সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শীত পুরোপুরি শুরু না হলেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। শীত মৌসুমে বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে সার, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও উৎপাদন খরচ ও বাজারদর নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তা কাটছে না।

কৃষকদের প্রত্যাশা, উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে সরকার। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা লোকসান কাটিয়ে লাভবান হবেন, অন্যদিকে সমৃদ্ধ হবে দেশের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা।

পড়ুন : মৌলভীবাজারে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রস্তুতি সভা

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন