জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই শোভাযাত্রা কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে।
এ ছাড়া, সকাল সাড়ে ৮টায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ নেই উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সরকার ও জনগণ প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো অরাজকতা জনগণই প্রতিহত করবে। ৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচির নিরাপত্তাও জনগণ নিশ্চিত করবে বলে জানান তিনি।
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিকরাও এই অরাজকতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত। প্রতিবেশী দেশ থেকেও উসকানি দেওয়া হচ্ছে। একটি কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। পলাতক শক্তিও আত্মগোপনে থেকে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি বিরোধী দলের সংহতি প্রকাশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তাদের গোপন সম্পর্কের প্রমাণ। শ্রমিক আন্দোলনের সংকটের সমাধান হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন যা হচ্ছে, তা শ্রমিক আন্দোলন নয়; বরং ফ্যাসিবাদী রাজনীতি। উসকানি দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করলে কেউ লাভবান হবে না।
এছাড়া বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, পোস্টার লাগানোসহ নানান কর্মসূচি পালন করবে। ৭ নভেম্বরের চেতনায় বিশ্বাসী অন্য রাজনৈতিক দল, জোট, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংগঠনও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের কর্মসূচি নিয়েছে।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ৭ নভেম্বরের চেতনার প্রতি ভীত হয়ে দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন বন্ধ করেছিল। বিএনপি এবং সমমনা দলগুলো এতদিন দিবসটি পালন করে আসছে। এবার দীর্ঘদিন পর আবারও রাষ্ট্রীয় ও জাতীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হবে।
পড়ুন : শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী


