আমি হত্যার ঘটনা সালিশের মাধ্যমে সমাধানের প্রশ্রয় দেয় না: ইঞ্জি. শ্যামল এমপি

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এমপি বলেছেন, কোনো হত্যার অপরাধে যেন সালিশের সমাধান না হয় সে ব্যাপারে পুলিশকে কঠোর হতে হবে। কারণ সর্দাররা এসব থেকে টাকা খায়। কোনো হত্যা যেন সালিশের শেষ না হয়। আদালতে এসবের বিচার হবে। যে কেউই আমার কাছে আসে, আমি হত্যার ঘটনা সালিশের সমাধানের প্রশ্রয় দেয় না। সবচেয়ে বেশি দরকার সচেতনতা। সাধারণ মানুষকে যত বেশি সম্পৃক্ত করতে পারব যতবেশি সব অপরাধ দূর করা সম্ভব।

শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধসহ সামাজিক দমন বিষয়ক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। আজ জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব বলেন, শুধু পুলিশ দিয়ে সব কিছু দূর করা সম্ভব না। সামাজিক সচেতনতা দরকার। পুলিশের সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়ালে এসব দূর করা সম্ভব। নারীদের জাগ্রত করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতেই হবে। কিশোর গ্যাং ও মাদক বাড়ছে। সামাজিকভাবে স্ব স্ব এলাকায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দায়িত্ব দিলে, ভালো ফল আসবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের উপমহাপরিদর্শক আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী। পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন এবং জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানবসম্পদ) মো. গিয়াস উদ্দিন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম খোকন, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচিসহ পুলিশ কর্মকর্তা, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্য এবং বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, একজন অপরাধী শুধু মানুষকেই আহত করে না, পরিবার ও সমাজকে ভেঙে দেয়। যে ঘরে নারীর সম্মান ও মর্যাদা পাবার কথা, সেই ঘরেই যদি নারীরা নির্যাতনের শিকার হন তাহলে তারা কোথায় যাবে। কোনো গৃহবধূর নির্যাতনের শিকার হন, মনে করবেন আমার বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার নিরাপত্তা দেয়া হবে। পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, থানায় এসে কোনো নারী যেন হয়রানির শিকার না হয়। থানায় নারীদের জন্য আলাদা ডেস্ক খোলা হয়েছে। যৌতুকের কারণে গত সেপ্টেম্বরে চট্রগ্রাম বিভাগে চার জন ও অক্টোবরে চার প্রাণ দিয়েছেন। এটা চলতে দেয়া যেতে পারে না। আমি বলেছি যৌতুক চাইলে আমার কাছে আসুন। এই ব্যাপারে আইনের যতটুকু কঠোর প্রয়োগ, আমরা করব। কোনো নারীকে যৌতুকের জন্য হয়রানির শিকার হতে দিব না। বাল্যবিবাহ আমাদের বন্ধ করতে হবে। জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: টুকু

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন