ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা বা গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশের পর ব্যাপক অসংগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় শিক্ষকদের নামের বানান, ব্যক্তিগত তথ্য ও জ্যেষ্ঠতার ক্রম নির্ধারণে নানা ভুল থাকায় ভুক্তভোগী শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকাশিত তালিকায় অনেক জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে পেছনে রেখে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র শিক্ষকদের নাম ওপরের দিকে স্থান দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ভুল ও অসংগতিপূর্ণ তালিকার কারণে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
প্রকাশিত গ্রেডেশন তালিকার বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে শিক্ষক তৈয়বুর রহমান বলেন, “গ্রেডেশন তালিকার ২৭৯ থেকে ৩৪৯ ক্রমিক পর্যন্ত যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা সবাই জাতীয়করণ প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক। তাঁরা কীভাবে ২০১২ সালের আগের সরাসরি রাজস্ব নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপরে স্থান পেলেন? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই ও সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।”
শিক্ষক ফাহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “তালিকার ৭৮৮ নম্বর ক্রমিকে একজন অবৈধ বা ভুয়া শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উৎকোচের বিনিময়ে ওই নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে আমার অভিযোগ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অন্যদিকে শিক্ষক জিয়াউর রহমান বলেন, “প্রকাশিত গ্রেডেশন তালিকার ১৩২ নম্বর ক্রমিকে মৃত আলী হায়দারের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া একই নিয়োগ আদেশের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম গ্রেডেশন তালিকায় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে স্থান পেয়েছে। এসব অসংগতি তালিকার নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।”
শিক্ষকদের দাবি, গ্রেডেশন তালিকা চূড়ান্ত করার আগে প্রতিটি শিক্ষকের নিয়োগের ধরন, নিয়োগের তারিখ, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, জ্যেষ্ঠতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা জরুরি। অন্যথায় ভুল তালিকার ভিত্তিতে পদোন্নতি কার্যক্রম পরিচালিত হলে প্রকৃত জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, “আজ থেকে প্রায় ছয় বছর আগে শিক্ষকরা যেভাবে ফরম পূরণ করে জমা দিয়েছিলেন, সেই তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেডেশন তালিকার ডেটা এন্ট্রি করা হয়েছে। সেখানে কোনো ভুল থাকলে তা যাচাই করে সংশোধন করে দেওয়া হবে। একটি ভুলের কারণে যেন কোনো শিক্ষক পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে আমরা অবশ্যই আন্তরিক থাকব বলে আশা করি।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকদের সমস্যা সমাধান এবং তাঁদের জন্য কাজ করার জন্যই আমরা আছি। ইনশাআল্লাহ, সবাই সহযোগিতা করবেন।”
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রত্যাশা, উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে দ্রুত গ্রেডেশন তালিকার ভুল-ত্রুটি সংশোধন করা হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্ভুল তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হবে।
পড়ুন : ধামরাইয়ে মাদকবিরোধী সভা, সন্তানদের সঠিক পথে রাখার আহ্বান অভির


