নোয়াখালীর রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ প্রকল্পের আওতায় লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন, স্টেশনগুলোর প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-নোয়াখালী রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নোয়াখালীর চৌমুহনী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণকাজ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম ও নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
পরিদর্শনকালে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, নোয়াখালী ও চৌমুহনী অঞ্চলের বিভিন্ন রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ছোট হওয়ায় যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানামায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে প্ল্যাটফর্মের বিপরীত পাশে ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের নতুন অংশ সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এটি চালু হলে একসঙ্গে ১৬টি কোচবিশিষ্ট ট্রেনের যাত্রীরা নিরাপদে ওঠানামা করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, প্ল্যাটফর্মের মেঝে পেভিং, অ্যাকসেস কন্ট্রোল ব্যবস্থার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন, স্টেশন ভবন ও শেডের সৌন্দর্যবর্ধনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। নোয়াখালীবাসীর যাতায়াত সুবিধা বাড়াতে বন্ধ হয়ে যাওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালু এবং নতুন আন্তনগর ট্রেন ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম জানান, লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত ৪৮ থেকে ৫০ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসনে প্রায় ৪০ কোটি টাকার একটি প্যাকেজের দরপত্র গত ৫ নভেম্বর আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ক্ষয়প্রাপ্ত রেলপাত ও স্টিল স্লিপার পরিবর্তন, নতুন পাথর (ব্যালাস্ট) স্থাপন, ফিটিংস আধুনিকায়ন, ব্যাংক প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিংগুলোর মানোন্নয়ন করা হবে।
ঢাকা-নোয়াখালী রুটে নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, মিটারগেজ ইঞ্জিনের সংকটের কারণে আপাতত নতুন ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে চট্টগ্রাম-দোহাজারী প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি নতুন মিটারগেজ লোকোমোটিভ কেনার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রতিটি ইঞ্জিনের আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকা। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এসব ইঞ্জিন ও নতুন কোচ রেলবহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ইঞ্জিন ও কোচ যুক্ত হলে বর্তমানে চলাচলরত ‘উপকূল এক্সপ্রেস’-এর বহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি ঢাকা-নোয়াখালী রুটে ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’ চালুর কার্যক্রমও পূর্ণাঙ্গভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
পড়ুন : নরসিংদীতে চাঞ্চল্যকর আব্দুল্লাহ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ‘আবু লাল’ হবিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার
সা/


