চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি ও পৌর নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী আমানুল্লাহ আল মাসুদ বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, আপনাদের ফ্যামেলী কার্ড দিবে। আপনাদেরকে এতটুকু গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, আপনারা সকল মা-বোন ফ্যামেলী কার্ড পাবেন। নাচোল উপজেলার ফ্যামেলী কার্ডের দায়িত্বে আমি আছি। ইনশাআল্লাহ, আপনারা পাবেন, এটা সিওর থাকেন।
শনিবার (০৭ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় বিপ্লব ও সংগতি দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিএনপির উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চলতি বছরের গত ১০ আগস্ট নাচোল উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়সহ কয়েকটি সরকারি দপ্তরে তালা দিয়েছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাস ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণের দাবি জানানো হয়। সেই আন্দোলনেও সামনের সারিতে ছিলেন, নাচোল পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি ও পৌর মেয়র পদপ্রার্থী আমানুল্লাহ আল মাসুদ।
এদিকে, সেই আন্দোলনে ইউএনও-কে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য ও মন্তব্যের কারনে নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ও কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মেহরাব জাকারিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে অবশ্য বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করলে তারা পদ ফিরে পান।
প্রকাশ্যে সরকারের চলমান ফ্যামেলী কার্ড নিয়ে এমন বক্তব্যে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাচোল উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, সরকারকে বির্তকিত করতেই তিনি (আমানুল্লাহ আল মাসুদ) এমন বক্তব্য দিয়েছেন। বিএনপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতোমধ্যে নাচোল উপজেলায় ফ্যামেলী কার্ডের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান আছে। এমনকি প্রক্রিয়াটি হবে সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংক্রিয় ও প্রযুক্তিনির্ভর। দলমত নির্বিশেষে আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে ফ্যামেলী কার্ড দেয়া হবে। আশা করি, তাকে এবিষয়ে দল সর্তক করবে এবং এমন বিব্রতকর ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।
এবিষয়ে নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাস মুঠোফোনে বলেন, ফ্যামেলী কার্ড নিয়ে এরকম বক্তব্য দেয়ার সুযোগ নাই। তিনি ( বিএনপি নেতা আমানুল্লাহ আল মাসুদ) ফ্যামেলী কার্ডের মনিটরিং কমিটিতে আছেন। কিন্তু তার অর্থ এই না, যে তিনি নাচোল উপজেলার দায়িত্বে আছেন। এরকম বক্তব্য দিয়ে থাকলে দায়ভার তার নিজের। উপজেলায় ফ্যামেলী কার্ডের নিয়মতান্ত্রিকভাবে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
পড়ুন:দিনাজপুর সরকারি কর্মচারী সমবায় সমিতির উদ্যোগে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত
ইমি/


