২৭/০২/২০২৬, ২১:০০ অপরাহ্ণ
22.9 C
Dhaka
২৭/০২/২০২৬, ২১:০০ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ঝিনাইদহ বেড়ানোর কথা বলে নারী-শিশু পাচারের চেষ্টা, ভারতীয় আটক

ঝিনাইদহ ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে রাতের আঁধারে সীমান্ত দিয়ে নারী শিশু ভারতে পাচার করতেন শংকর অধিকারী। এমনকি পাচারের জন্য টার্গেটকৃত নারীকে পাতানো বিয়ে করতেন তিনি। পরে কৌশলে রাতের আঁধারে ঝিনাইদহের অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুদের পাচার করতেন শংকর অধিকারী। অবশেষে পাচারচক্রের হোতা ভারতীয় নাগরিক শংকর অধিকারী বিজিবির হাতে ধরা পড়েছেন। আটক হওয়ার পরে বিজিবির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য জানিয়েছেন ওই ভারতীয় নাগরিক।

বৃহস্পতিবার (১ মে) রাত ১১টার দিকে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আটক শংকর অধিকারী (৩৯) ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাগদা থানার পূর্বহুদা গ্রামের নুকুল অধিকারীর ছেলে।

বিজিবি বলছে, বৃহস্পতিবার বিকাল সাগে ৫টার দিকে মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বাঘাডাঙ্গা বিওপির নায়েক আবু হানিফ ভারতীয় নাগরিক শংকর অধিকারী কে আটক করে। সীমান্ত পিলার-৬০/৩৩ সংলগ্ন বাংলাদেশের ১ কিলোমিটার ভেতরে কাঞ্চনপুর গ্রামের ব্রিজের ওপর থেকে তাকে আটক করে বিজিবি।

বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানিয়েছে, আটক শংকর অধিকারী দুই নারী ও এক শিশুকে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা চেষ্টা করছিলেন। এসময় বিজিবির টহল দল তাকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে নগদ বাংলাদেশি মুদ্রা ৫০ হাজার ১১০ টাকা, ৮৫০ ভারতীয় রুপী এবং ওমানি ৭ রিয়েল উদ্ধার করা হয়েছে।

আটকের পরে শংকর অধিকারী ও দুই নারীর দেয়া তথ্য যাচাই বাছাই শুরু করে বিজিবি। বেরিয়ে আসে নারী ও শিশু পাচারের চাঞ্চল্যকর কৌশলের অজানা তথ্য।

আটকদের দেয়া তথ্য মতে, গত বছরের ১১ নভেম্বর ৬ মাসের ভিসা নিয়ে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন শংকর অধিকারী। এরপর তিনি মাদারীপুরে রাজৈর থানার বড়খোলা গ্রামে তার আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান নেন। সেখানে তিনি কৌশলে এক কিশোরীকে (১৩) বিয়ে করে ভারতে ফিরে যান। পরে গত ১৭ এপ্রিল আবারও বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসেন পাচারকারী চক্রের হোতা শংকর অধিকারী। এরপর বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে নিজের কথিত কিশোরী স্ত্রী, প্রতিবেশী যুথিকা বালা (২৯) ও তার ছেলে বাধন বৈদ্যকে নিয়ে মহেশপুর সীমান্তে আসেন শংকর। একপর্যায়ে দালালদের মাধ্যমে দুই নারী ও এক শিশুকে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে বিজিবির জালে আটকা পড়েন তিনি।

শংকরের কথিত কিশোরী স্ত্রী ও অপর নারী যুথিকা হালদার এর বরাতে বিজিবি জানিয়েছে, ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে পাচারের উদ্দেশ্যে দুই নারী ও এক শিশুকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসেন শংকর অধিকারী। সীমান্ত এলাকায় পৌছানোর আগে পর্যন্ত ভিকটিম নারী ও শিশুরা শংকরের আসল উদ্দেশ্য বুঝতেও পারেননি। ভিকটিম নারী ও শিশুরা ভারতে প্রবেশের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে তারা বিজিবির কাছে দাবি করেছেন।

এদিকে ভারতীয় পাচারকারী চক্রের হোতা শংকর অধিকারী বিজিবির কাছে জানিয়েছেন, কথিত স্ত্রী সহ দুজন নারী এবং এক শিশুকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশী জনৈক দালাল আনোয়ারের সাথে ৪৭ হাজার টাকার চুক্তি করেন শংকর। চুক্তি অনুযায়ী ওই নারী ও শিশুকে ভারতে অনুপ্রবেশ করানোর পরে কথিত দালাল আনোয়ারকে টাকা প্রদান করার কথা ছিল।

বিজিবি বলছে, আটক মানব পাচারকারী চক্রের হোতা শংকর অধিকারী কৌশলে নিজের টাকা ব্যয় করে ওই তিনজনকে ভারতে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন। ভারতে নেয়ার পরে ওই তিনজনকে বিক্রি করে দিয়ে নিজের টাকা উসুল করার পরিকল্পনা ছিল পাচারকারীর। মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন নানা কৌশলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নারী ও শিশু পাচারের চেষ্টা করে আসছে। আটক শংকর অধিকারীকে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি।

মহেশপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, আটক পাচারকারী চক্রের হোতা ভারতীয় নাগরিক শংকর অধিকারীর বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা দেয়া হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আটক নারী শিশু সহ তিন বাংলাদেশিকে যশোরের জাস্টিস এন্ড কেয়ার সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: ঝিনাইদহে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশি অভিযান

দেখুন: ঝিনাইদহের ‘ভাইরাল গেটম্যান’ সুমি একাই একশ

এস

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন