বিজ্ঞাপন

দর্শনা পুলিশের হাতে গ্রেফতারের একদিন পর কারাগারে মহিরুলের মৃত্যু, তদন্ত দাবি পরিবারের

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতারের একদিন পর জেলা কারাগারে মারা গেছেন দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি গ্রামের মহিরুল ইসলাম। রোববার (২ জুন) রাতে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে রাতেই তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে মৃত্যুবরণ করেন।

বিজ্ঞাপন

নিহত মহিরুল ইসলাম (৪৫) কুড়ুলগাছি গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুরে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। রোববার সকালে নিজ গ্রামে ফেরার পর দর্শনা থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, তার বিরুদ্ধে মাদক মামলায় একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহীদ তিতুমীর জানান, ‘থানার এসআই রেজাউল হোসেনের নেতৃত্বে মহিরুলকে আটক করা হয় এবং বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আদালতের নির্দেশে তাকে কোট হাজতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার মো. ফখর উদ্দিন জানান, “মহিরুলকে বিকেলে কারাগারে আনা হয়। সে অসুস্থ বিধায়, তাকে কারাগারের হাসপাতালে রাখা হয়। রাতে সে অসুস্থ বেশি হলে রাত ১টার পরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।”

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘রাতেই তাকে কারা কর্তৃপক্ষ অজ্ঞান অবস্থায় নিয়ে আসেন। আমরা সব ধরনের চিকিৎসা দিয়েছি। আমার জরুরি বিভাগের যিনি চিকিৎসক ছিলেন, তিনি ব্লাড প্রেসারও স্বাভাবিক পেয়েছিলেন। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, ব্রেন স্ট্রোকে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

তবে মহিরুলের পরিবারের দাবি, গ্রেফতারের সময় তিনি পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন। পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। নিহতের ভাতিজা সাইদুর রহমান বলেন, “এটা কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। সুস্থ মানুষ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায় কীভাবে? আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

এ ঘটনায় কুড়ুলগাছি গ্রামের স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু, যা আড়াল করার চেষ্টা চলছে। নিহতের পরিবার দ্রুত বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা শোনা গেলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

পড়ুন: পিরিয়ডের সময় ব্যথা কমায় যে খাবার

দেখুন: হ ত্যার পরিকল্পনা হয় এসি রুমে 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন