বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন কর ছাড় এবং ব্যয় সংক্রান্ত বিলকে “জঘন্য বিভীষিকা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার এই মন্তব্য শুধু নেটমাধ্যমেই নয়, প্রভাব ফেলেছে ওয়াশিংটনের কংগ্রেসেও।
টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক গত মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ বা সাবেক টুইটারে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, “আমি দুঃখিত, কিন্তু আমি আর সহ্য করতে পারছি না। এই বিশাল, অযৌক্তিক, অপচয়ভরা কংগ্রেসের ব্যয় বিল একটি জঘন্য বিভীষিকা।”
তিনি আরও বলেন, “যারা এটি পাস করেছে, তাদের লজ্জা করা উচিত। তোমরা জানো, তোমরা ভুল করেছো।”
মাস্কের এই মন্তব্যের সাথে সাথে সাড়া পড়ে যায় রিপাবলিকান দলে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে থাকা একাধিক রক্ষণশীল রিপাবলিকান সদস্য তার বক্তব্যকে সমর্থন করেন। অনেকেই প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেছেন এই বিলের মাধ্যমে দেশের ঋণ আরও বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে ভীষণ ক্ষতিকর।
এই প্রস্তাবিত বিলটি মূলত ২০১৭ সালের কর ছাড় নীতিকে দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা। সেইসঙ্গে বাড়ানো হবে সামরিক ব্যয় ও সীমান্ত নিরাপত্তায় অর্থ বরাদ্দ। তবে এই বিলকে ঘিরে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো এটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ঘাটতিতে আরও ৩.৮ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করতে পারে বলে জানিয়েছে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩৬.২ ট্রিলিয়ন ডলারে।
বিলটি হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এরইমধ্যে পাস হয়েছে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে। তবে সিনেটে এখনও এটি নিয়ে দ্বিধা দেখা যাচ্ছে। কারণ, রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সকল সদস্য একমত নন।
সিনেটের ফাইন্যান্স কমিটির সদস্যরা হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন আগামীকাল। এখানে মূলত কর ছাড়ের ব্যবসায়িক দিকগুলো স্থায়ী করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বিলের ব্যয় আরও বাড়াবে।
ইলন মাস্কের মূল্যায়নকে অগ্রাহ্য করে সিনেটের রিপাবলিকান লিডার জন থিউন বলেছেন, “আমাদের দায়িত্ব জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট পালন করা। এই বিল সেই লক্ষ্য পূরণের পথে একটি ধাপ।” অন্যদিকে, হাউজ স্পিকার মাইক জনসন আরও একধাপ এগিয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, “আমার বন্ধু ইলন এখানে মারাত্মক ভুল করছেন।”
ইলন মাস্ক ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’র বিশেষ কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তার নেতৃত্বে কিছু সরকারী দফতরে কার্যকরী পরিবর্তন আনলেও, বড় অঙ্কের ব্যয় সাশ্রয় অর্জিত হয়নি।
গত বছরের নির্বাচনে মাস্ক ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের প্রচারণায় প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার দান করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কমিয়ে টেসলা ও স্পেসএক্সের দিকে আবার পূর্ণ মনোযোগ দিতে চান তিনি।
কর বিল নিয়ে তার সরব বিরোধিতা রিপাবলিকান নেতৃত্বের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যখন দেখা যাচ্ছে, সিনেটের অভ্যন্তরে অন্তত চারজন রক্ষণশীল সদস্য চাচ্ছেন এই বিলের খরচ আরও কমানো হোক। আবার অন্য একটি গ্রুপ চাইছে, কম আয়ের আমেরিকানদের জন্য থাকা মেডিকেইড সুবিধা এবং গ্রিন এনার্জিতে বিনিয়োগ যেন কাটছাঁট না হয়।
সিনেটর মাইক লি লিখেছেন, “এই বিলের মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি কমাতে হবে। জনগণ সেটাই আশা করে, সেটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।” অন্যদিকে, সিনেটর জেরি মোরান জানিয়েছেন, “আমি নিশ্চিত করতে চাই, প্রতিবন্ধী ও নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
এই পরিস্থিতিতে বিলটি পাস করাতে রিপাবলিকানদের হাতে সময়ও খুব বেশি নেই। ৪ জুলাইয়ের মধ্যে পাস না হলে, বিলটি আটকে যেতে পারে। এক্ষেত্রে শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়াতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যিনি সমতা ভাঙার জন্য ভোট দিতে পারেন।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো মাস্কের প্রকাশ্য অবস্থান কি রিপাবলিকান দলকে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করবে? ট্রাম্পের প্রস্তাবিত “ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল” আদৌ কি তার নিজের দলের মধ্যেই গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে? এর উত্তর মিলবে কংগ্রেসের আসন্ন ভোটে।
এনএ/


