কোরবানি ও আনুসঙ্গিক কাজ শেষ করতেই দিন পার হচ্ছে অনেকের। ফলে কোথাও ঘুরতে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। এ কারণে চিড়িয়াখানা ও অন্য বিনোদনকেন্দ্র গুলোতে দর্শনার্থীদের তেমন একটা ভিড় দেখা যায়নি।
ভিড় নেই চিড়িয়াখানায়
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে চিড়িয়াখানার গেটে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়নি। ১০টি টিকিট কাউন্টারের মধ্যে ২টিতে বিক্রি হচ্ছে টিকিট। সেগুলোও প্রায় ফাঁকা। টিকিট কাউন্টার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দুই হাজার মতো দর্শনার্থী এসেছেন চিড়িয়াখানায়।

যে কোনো ছুটির দিনে চিড়িয়াখানার বাইরে অর্ধশতাধিক হকারের আনাগোনা থাকে, তবে আজ হকারের সংখ্যা ছিল কম। হাতে গোনা কয়েকজন হকারকে লেবুর সরবত, আচার, বাদাম, ফুচকা, বেলুন ও খেলনা বিক্রি করতে দেখা গেছে। কোরবানির ঈদের প্রথম দিনে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর ভিড় সাধারণত কম থাকে বলে জানান হকাররা।
ভিড় নেই হাতিরঝিলে, স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে পারছেন আগতরা
ঈদসহ যে কোনো উৎসবের দিনে হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে হাতিরঝিল। তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ঈদের দিনে রাজধানীর জনপ্রিয় এই বিনোদনকেন্দ্রটিতে দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
শনিবার (৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাতিরঝিলে গিয়ে দেখা যায়, হাতে গোনা অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ ঘোরাফেরা করছেন। এদের বেশিরভাগই তরুণ-তরুণী। কয়েকটি শিশুকেও দেখা গেলো বাবা-মায়ের সঙ্গে হাতিরঝিলে ঘুরতে এসেছে।

হাতিরঝিলের মূল প্রবেশপথ, লেকপাড়, সেতু এবং নৌকা ভ্রমণের ঘাটগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা। যেখানে অন্যবছর এই সময়ে প্রচণ্ড ভিড়ে হাঁটাও দায় হয়ে পড়ে, সেখানে এবার ছিল বেশ প্রশান্তিময় পরিবেশ।
কয়েকজন দোকানি এবং দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দর্শনার্থীর সংখ্যা রোজার ঈদের তুলনায় খুবই কম। রোজার ঈদে দুপুরের পরপরই হাতিরঝিলে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
কোরবানির ঈদ হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ মাংস কাটাকাটি এবং আনুষঙ্গিক কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। এ কারণে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থী খুবই কম। তবে সন্ধ্যার পর দর্শনার্থী কিছুটা বাড়তে পারে। আগামীকাল হাতিরঝিল দর্শনার্থীতে পরিপূর্ণ থাকবে বলে আশা করছেন দোকানিরা।
মানুষের উপস্থিতি কম থাকলেও হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা কিছু দর্শনার্থী এই সুযোগকেই দেখছেন স্বস্তির নিঃশ্বাস হিসেবে। তেজগাঁও থেকে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে আসা ফেরদৌস হাসান বলেন, যে কোনো ছুটির দিনেই হাতিরঝিলে মানুষের বেশ ভিড় দেখা যায়। মাঝেমধ্যে এত ভিড় হয় যে হাঁটা যায় না। তবে আজ মানুষের উপস্থিতি খুব কম। এতে বেশ আরাম করে লেকপাড়ে ঘোরাঘুরি করা যাচ্ছে।


