ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে রোমের পিয়াজা দেল পপোলোতে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসমাবেশে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলা ও ইতালীয় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে এই সমাবেশে কন্তে বলেন, “আপনারা আজ পিঠ সোজা করে দাঁড়িয়ে আছেন, অথচ আমাদের সরকার সংসদে নীরব থেকেছে একটি অপরাধী সরকারকে নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়ে।”
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০ মাস ধরে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে ইতালির সরকার কার্যত ‘চোখ বন্ধ করে’ রেখেছে। কন্তের ভাষ্যমতে, এই সময়ের মধ্যে গাজায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ, যার মধ্যে ১৬ হাজারেরও বেশি শিশু। তিনি উল্লেখ করেন, গরিব ফিলিস্তিনিদের প্রতি আন্তর্জাতিক অবহেলার কারণেই এ ধরনের গণহত্যা ঘটতে পেরেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী কন্তে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, আমেরিকার সহায়তা ছাড়া এই হত্যাযজ্ঞ সম্ভব ছিল না। পাশাপাশি তিনি ইতালির সরকারকে দ্বিচারিতা করার অভিযোগ এনে বলেন, একজন শিশু ধর্ষককে ফেরত আনতে রাষ্ট্রীয় বিমান পাঠানো যায়, অথচ একটি চলমান গণহত্যা নিয়ে ২০ মাসে একটিও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
কন্তে তিনটি দাবির কথা তুলে ধরেন:
১. ইসরায়েলে সব ধরনের সামরিক সহায়তা বন্ধ করা
২. ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইসরায়েলের বিদ্যমান চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা
৩. জাতিসংঘে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে ভোট দেওয়া
সমালোচনার জবাবে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ ওঠলে কন্তে স্পষ্ট করে বলেন, “নেতানিয়াহুর অপরাধী নীতির সমালোচনা কোনোভাবেই ইহুদিবিদ্বেষ নয়—এটি মানবতার প্রশ্ন।” সমাবেশের শেষ মুহূর্তে পুরো ভিড় একসঙ্গে “ফ্রি প্যালেস্টাইন” স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
এই সমাবেশ ইতালিতে ফিলিস্তিন সংক্রান্ত জনমতের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এনএ/


