25.7 C
Dhaka
০৪/০৩/২০২৬, ২০:৫৪ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

নেতানিয়াহুর বিদায়ের সময় এসেছে: ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে- এমনটাই বলেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভকে দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন, যা অত্যধিক হয়ে গেছে। এটি ইসরায়েলের জন্য আর কোনোভাবে ইতিবাচক নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

চ্যানেল টুয়েলভের সেই সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি কোনো নির্বাচনী ঘোষণা না দিলেও নেতানিয়াহুবিরোধী বক্তব্যে জোর দেন। বলেন, ইসরায়েলি সমাজে যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে, তার জন্য অনেকটাই দায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্য, “নেতানিয়াহুকে বিদায় নিতে হবে।”

বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নেতানিয়াহু যেমন শক্ত সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি করেছেন, তেমনি গঠন করেছেন কড়া সমালোচকদের একটি বলয়ও। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের শুরু করা সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ২০২১ সালে নেতানিয়াহুবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গড়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এতে ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ডানপন্থী ধর্মভিত্তিক নেতার সঙ্গে একটি মধ্যপন্থী ও বামঘেঁষা দল একত্রে সরকার গঠন করে। ফলে নেতানিয়াহুর টানা ১২ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

তবে বেনেট ও ইয়ার লাপিদের সেই সরকার এক বছরও টেকেনি। দ্রুতই ভেঙে পড়ে জোট। এর পরের নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর সমর্থনে আবারও ক্ষমতায় আসেন নেতানিয়াহু।

সেই থেকেই রাজনীতি থেকে কিছুটা বিরতিতে ছিলেন বেনেট। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে। জনমত জরিপ বলছে, তিনি চাইলে নেতানিয়াহুকে আবারও পরাজিত করার মতো জনসমর্থন পেতে পারেন। যদিও ইসরায়েলে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৬ সালের শেষভাগে হওয়ার কথা। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশটিতে আগাম নির্বাচন নতুন কিছু নয়।

সাক্ষাৎকারে বেনেট দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় সম্প্রতি যে হামলা চালানো হয়েছে, তার পরিকল্পনা ও ভিত্তি আসলে তার শাসনামলেই তৈরি হয়েছিল। তার ভাষায়, “এই হামলার সিদ্ধান্ত খুবই প্রয়োজনীয় ছিল এবং তা সঠিকভাবে নেওয়া হয়েছে। আমি যদি আগেই প্রস্তুতি তৈরি না করে দিতাম, তাহলে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না।”

গাজা ইস্যু নিয়েও বক্তব্য দেন বেনেট। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কার্যক্রম ছিল দক্ষ ও পেশাদার, তবে দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এখন বিপর্যয়ের মধ্যে। গাজায় যারা এখনো হামাসের হাতে বন্দি রয়েছেন, তাদের মুক্তির জন্য একটি জরুরি ‘সমন্বিত’ চুক্তির প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ সময় নেতানিয়াহুকে ইঙ্গিত করে বেনেট বলেন, “হামাসকে নির্মূল করার দায়িত্ব ভবিষ্যতের কোনো সরকারের ওপর ছেড়ে দিন।” এই বক্তব্যকে অনেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য সংকেত হিসেবে দেখছেন।

তবে বেনেট নিজে নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না এই বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। সাক্ষাৎকারে বারবার প্রশ্ন করা হলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। ফলে তার রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে উত্তেজনা ও কৌতূহল আরও বাড়ছে।

এনএ/

দেখুন: ইরানের আকাশ থেকে যুদ্ধবিমান ঘুরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছিল নেতানিয়াহু

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন