সম্প্রতি ইরানের তিন পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে দুই বছর পিছিয়ে গেছে ইরান। এমনটাই দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো এই অভিযান ছিলো ‘সাহসী ও সফল’। তবে ইরান বলছে, মার্কিন দাবি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। গত ৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, “ইরানের কর্মসূচিকে কমপক্ষে দুই বছর পিছিয়ে দিয়েছি আমরা।” প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বের বক্তব্যকে আরো জোর দিয়ে এই অভিযানকে একটি সাহসী অপারেশন বলে অভিহিত করেন তিনি। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে “যেমনটা আগে কখনও দেখা যায়নি”।
তবে, গত মাসে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, এই হামলাগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল উপাদানগুলো ধ্বংস করতে পারেনি। ইরানের পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলা ইরানের পরমাণু কার্যক্রমকে মাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে কেবল।
হামলার আগে ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনাসহ বেশ কিছু জায়গা থেকে ট্রাকে করে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছিলো বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম।
অন্যদিকে তেহরান এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও দেশটির কিছু কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় বেশ কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, “ট্রাম্প এই হামলার প্রভাব “অতিরঞ্জিতভাবে” উপস্থাপন করছেন।”
জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানান, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদের কন্টেইনারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এই উপাদানগুলোর কিছু হয়তো ধ্বংস হয়ে গেছে, আবার কিছু হয়তো অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান কয়েক মাসের মধ্যেই আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করার সক্ষমতা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানো তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা এতদিন আইএইএ-এর তত্ত্বাবধানে ছিল। কিন্তু এই যুদ্ধের পর ইরান আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে এবং সংস্থাটির বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ আনে। ইরানের দাবি, তারা এমন কিছু ইসরায়েলি নথি পেয়েছে, যা প্রমাণ করে যে আইএইএ গোপনে ইসরায়েলকে তথ্য দিচ্ছিল।
গত ১৩ জুন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামাতে দেশটিতে হামলা চালায় ইসরায়েল। এই হামলায় ইরানি নাগরিক, বিজ্ঞানী এবং সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। পাল্টা জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েলে।
এরপর গত ২১ জুন যুক্তরাষ্ট্র যখন বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে হামলা চালায়।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান-ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও ইসরায়েল এই যুদ্ধকে “ঐতিহাসিক বিজয়” হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ধ্বংস করেছে। তবে ইরান দাবি করেছে, তারা সরকার, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে বহাল রেখে ইসরায়েলের লক্ষ্য ব্যর্থ করেছে।
পড়ুন: রাঙামাটিতে এনসিপির শ্রমিক উইংয়ের যাত্রা শুরু
দেখুন: আনার হ*ত্যা*র মোটিভ এখনও ‘অস্পষ্ট’, ২ আসামি রিমান্ডে |
ইম/


