ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার আমলে মিথ্যা গায়েবি মামলার শিকার নির্যাতিত জেলখাটা বিএনপির একজন সক্রিয় ত্যাগিকর্মী মোঃ সালাউদ্দিনকে নিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র নেতা কর্মীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা নাগরিক টেলিভিশনকে জানান, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে তার পালিত গুন্ডা পুলিশ বাহিনীর হাতে সালাউদ্দিন অমানবিক নির্যাতনের পাশাপাশি বহুবার মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল খেঁটেছেন। এ সময় বিএনপির আরো একজন সিনিয়র নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সালাউদ্দিন পুলিশের মিথ্যা মামলায় বার বার গ্রেফতার হয়ে জেল খেঁটেছেন বহুবার।

তথ্য সুত্রে আরো জানা যায়, গত ২৯ জুলাই ২০২৩ সালে মোঃ সালাউদ্দিন পিতা আব্দুল মালেক সওদাগর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কর্তৃক ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ পথ বিমানবন্দর থানাধীন ১ নং সেক্টর স্কলাস্টিকা স্কুলের সামনে ধর্মঘট পালন করার সময় পুলিশ বাহীনি বিএনপির নেতা কর্মীদের উপর লাঠি চার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়। এ সময় তারা ত্যাগী কর্মী সালাউদ্দিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়, পরবর্তীতে অমানবিক নির্যাতন শেষে তাকে মামলা দিয়ে আদালতে চালান করে দেয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ৩০ অক্টোবর ২০১৮ সালে এস আই, মোঃ মোখলেছুর রহমান বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় সরকারি কাজে বাঁধা ও বিস্ফোরক আইনে তার নামে মামলা করেন। এছাড়াও গত ০৩/০৯/২০১৮সালে দক্ষিনখান থানায় পুলিশ বাদি হয়ে তার বিরুদ্ধে জি আর, মামলা করেন, নং ০৩/৩৯২। ২০১৮ সালে উত্তরা পশ্চিম থানায় সালাউদ্দিনের নামে আরো অনেক গুলো বিস্ফোরক মামলা দিয়েছে ফ্যাসিবাদের দোসর পুলিশ বাহিনী।
জানা যায়, মোঃ সালাউদ্দিন ২০০৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানার ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দলের জন্য নিবেদীত কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তার নেতৃত্বে বিমানবন্দর শ্রমিক দল ঔ সময় ছিলো অত্যন্ত সু-সংগঠিত ও প্রাণবন্ত।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিমানবন্দর থানার ২০১৮ সালের সভাপতি মোঃ জুলহাস পারভেজ মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন ভূইয়ার ১২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে মোঃ সালাউদ্দিন ছিলেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। ঔ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন মিজানুর রহমান সবুজ ও মোঃ জালাল আহমেদ।
গত কয়েক দিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিএনপির একনিষ্ট কর্মী সালাউদ্দিন ও তার ছেলের নামে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে তাকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়াও তাকে রাজনৈতিক ও মানসিক ভাবে দূর্বল করার হীনচেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে মোঃ সালাউদ্দিন নাগরিক টেলিভিশনকে বলেন, তিনি দীর্ঘ অনেক বছর যাবত রাজনীতির পাশাপাশি বিমানবন্দর গোলচক্কর এলাকার বাবুস সালাম জামে মসজিদ-মার্কেটের নিচে দোকান ভাড়া নিয়ে রেস্টুরেন্ট ব্যাবসা করে আসছেন। কর্তৃপক্ষকে তিনি নিয়মিত দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও পানির বিল পরিশোধ করছেন। গত কয়েকদিন যাবত একটি কুচক্রী মহল তার মক্কা হোটেল এন্ড রেস্তোরাঁটি দখল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন লোক দিয়ে তাকে হুমকি দিচ্ছে, পাশাপাশি অপপ্রচার ও মনগড়া মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তা বাদী দল বিএনপির একজন সক্রিয় ত্যাগী কর্মী সালাউদ্দিন ও তার ছেলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখ সাড়ির যোদ্ধা ইয়াছিনের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা ও বানোয়াট প্রোপাগান্ডায় স্থানীয় লোকজন ও স্থানীয় দোকানদারদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন সালাউদ্দিনের ছেলে জুলাই ২৪ ছাত্র আন্দোলনে একজন সম্মুখ সারির যোদ্ধা ছিলেন।ছাত্র আন্দোলনের একজন তরুণ যোদ্ধার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা ও হয়রানি মূলক প্রোপাগান্ডা চালিয়ে একটি মহল সালাউদ্দিনের দোকান দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এ সব বিষয় নিয়ে বিমানবন্দর গোলচক্কর এলাকার বাবুস সালাম জামে মসজিদ-মাদ্রাসা মার্কেটের দোকানদারগণ বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে ফ্যাসিস হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তার দোসররা এখনো সুনামধন্য বাবুস সালাম মসজিদ-মাদ্রাসা মার্কেটটি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানদার বলেন, ঔ সব ব্যাক্তিদের নামে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিরিহ ছাত্রদের উপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে আহত করার ঘটনায় তাদের নামে হত্যা চেষ্টার মামলাও রয়েছে। আসামিরা এখনো দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে উত্তরাতে।
স্থানীয় রাজনীতিবীদরা জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক সালাউদ্দিন ফ্যাসিস হাসিনার আমলে সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তৎকালিন পুলিশের হাতে বহুবার গ্রেফতার হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, জেল খেটেছেন।
মোঃ সালাউদ্দিনের বিষয়ে উত্তরখান হযরত শাহ কবির (রহ.) এর ভক্ত আশেক ও দেশের বিভিন্ন অলি আউলিয়াগণের আশেক ভক্ত ও তরিকার লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সালাউদ্দিন একজন পাগল মানুষ, তিনি একজন আশেকে রাসুল। সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরাণ (রহ.) এর মাজার, মাইজভান্ডার শরীফসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ওলি আওলিয়াদের দরবারে রয়েছে তার অবাধ যাওয়া আসা। তিনি বিভিন্ন দরবারে দরবারে ওলিদের কদমে সময় কাঁটান। এমন একজন আশেকে রাসুল, পাগলের নামে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোকে তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। তারা এ সবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেন।
বাবুস সালাম মাদ্রাসা ও মসজিদের আশপাশের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা বলেন, সালাউদ্দিন পেয়ারী একজন ভালো মনের মানুষ, সদা হাস্যজ্জল ও সদালাপী এই ব্যক্তিটির সাথে এখনকার কোন দোকানদারের সাথে কখনো কোন ধরনের কথার কাঁটা কাঁটি পর্যন্ত হয়নি। তার নামে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনি ব্যবস্থার জোর দাবি জানান।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা তার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার নিন্দা জানিয়ে বলেন, তারুণ্যের অহংকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করা সালাউদ্দিন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডায় লিপ্ত কুচক্রী মহলকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
পড়ুন : ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রত্যাশার পাশাপাশি হতাশাও রয়েছে: মির্জা ফখরুল


