পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী বরগুনার লাল চাদ ওরফে সোহাগকে বরগুনার নানাবাড়িতে দাফন করা হয়েছে। সোহাগের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে আকাশ বাতাস। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
এখন নতুন করে নিরাপত্তার শঙ্কায় ভুগছেন পরিবারটি। এখনো প্রতিনিয়ত মুঠোফোনে হুমকি দিচ্ছেন হত্যাকারিদের লোকজন । ১০ বছরের ছেলে সোহান ও ১৪ বছরের মেয়ে সোহানা। তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার কোনো ভাষা জানা নেই তার।
এর আগে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে নিহত লাল চাঁদ ওরফে সোহাগের মরদেহ বরগুনায় নিয়ে আসেন স্বজনরা। সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর নামক এলাকায় তার মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
স্বজন সূত্রে জানা যায়, সোহাগের বয়স যখন মাত্র ৭ মাস তখন বজ্রপাতে মৃত্যু হয় তার বাবা আইউব আলীর। এরপর জীবিকার তাগিদে মা আলেয়া বেগম শিশু সোহাগ ও তার আরও দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে বরগুনা ছেড়ে রাজধানী ঢাকায় পাড়ি দেন। ওই সময় থেকেই সোহাগ ঢাকায় বসবাস করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মিডফোর্ড এলাকায় মেসার্স সোহানা মেটাল নামের একটি দোকান চালিয়ে জীবীকা নির্বাহ করতেন। ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিমাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করেই অভিযুক্তদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয় । পরে চাঁদা দাবির টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সোহাগের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধও করে অভিযুক্তরা। এরপর বুধবার বিকেলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে চাঁদার দাবিতে সোহাগকে আটকে রেখে দফায় দফায় চাপ প্রয়োগ করা হয়। এতেও চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় সোহাগকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে পাথর মেরে হত্যা করা হয় বলে জানান স্বজনরা। নিহত সোহাগ তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঢাকার জিঞ্জিরা কদমতলী কেরানিগঞ্জ মডেল টাউন নামক এলাকায় বসবাস করতেন।
শনিবার দুপুরে নিহত সোহাগের গ্রামের বাড়ি ইসলাম পুর গিয়ে দেখা যায় দোতলা টিনের ঘরের মধ্যে একটি চৌকিতের এক কোণে বসে নিবাক অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন নিহত সোহাগের স্ত্রী লাকি বেগম । কিছু জিজ্ঞাস করলেই হাউ মাউ করে কেঁদে উঠেন।
পরিবারটির খোজ নিয়ে শনিরাব সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপিত নজরুল ইসলাম মোল্লা । নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন , নিহত সোহাগ আমাদের দলীয় লোক। শোকার্ত পরিবারটির খোঁজ খবর নিয়েছি। তাদের আইনি , আর্থিক সহযোগীরর করা হবে।
সোহাগের মেয়ে সোহানা বলেন ,আমার বাবার হত্যাকারিদের শাস্তি চাই। আমাদের নিরাপত্তার জন্য সরকার প্রধানের কাছে আবেদন আমাদের পরিবারটিকে বাঁচান। হত্যাকারিা আমাদের বাসা লুটকরতে চাইছিলো। জানি না ঢাকায় গেলে আমাদের কি হয়।
নিহত সোহাগের স্ত্রী লাকি বেগম বলেন, আমার স্বামীকে ব্যবসায়ী দ্বন্দ্বের কারনে হত্যা করা হয়েছ। তাকে যখন মারধর করে তখন সে তার জীবন ভিক্ষা চায়। তাদের সব কিছু নিয়ে যেতে বলছিলো তার পরেও তারা আমার স্বামীকে নির্মম নিযাতন করে হত্যা করেছে। ছেলে- মেয়ে নিয়ে তার স্বপ্ন ছিলো অনেক । সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে হত্যা কারিরা। পরিবারের একমাত্র আয়ের ব্যক্তি ছিলো আমার স্বামী। এখন এই দুইটি সন্তান নিয়ে আমি কোথায় যাবো। ওদের পড়া লেখার খরচ কোথা দিয়ে আসবে এই বিষয় গুলো ভাবনে আমার চারপাশ অন্ধাকার হয়ে আসে।
নিহত সোহাগের বোন ফাতিমা বলেন আমার ভাইকে পাতর দিয়ে আঘাত করে নির্মম ভাবে যারা হত্যা করেছে তাদেরকে ও একই ভাবে কষ্ট দিয়ে এই হত্যার ন্যায় বিচার দাবি করছি। ঘটনার দিন বাসা দিয়ে যাওয়ার সময় ভাই আমাকে বলেছিলো ওরা আমাকে বাঁচতে দিবে না। আমার ভাইয়ের আশঙ্কাই সত্যি হলো। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন ,পরিবারটিকে আমাদের সাধ্যমত সহযোগীতার করা হবে। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
পড়ুন: দিনাজপুর জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
দেখুন: জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে কী বললেন আসিফ মাহমুদ?
ইম/


