28.5 C
Dhaka
০৪/০৩/২০২৬, ১৮:০৯ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে রাশিয়া-ইরান সম্পর্কে ফাটল

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানকে একটি নতুন পরমাণু চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্রস্তাবে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ শূণ্যে নামিয়ে আনতে বলা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওস এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এবং ইরানি নেতাদের কাছে সরাসরি এই প্রস্তাব উত্থান করেছেন তিনি।

এই প্রস্তাবের মাধ্যমে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূণ্যে নামিয়ে আনতে বলায় ধারণা করা হচ্ছে এবার ইরান ইসরায়েলের সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে। কারন যেহেতু একে দুই দেশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু তালিকায় আবার ইউক্রেন যুদ্ধেও রাশিয়াকে বিভিন্ন অস্ত্র সরবরাহ করেছিলো ইরান। তাই ধারণা করা হয়েছিল এবার ইরানের পাশে থাকবে রাশিয়া।

এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা আবারও চরমে। বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যৌথ হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি পরমাণু স্থাপনা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও ইরানের সকল সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে পারেনি এই হামলা, তবে ইরানের কোনো সেন্ট্রিফিউজ টিকে আছে কিনা সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।

মজার ব্যাপার হলো, পরমাণু ইস্যুতে রাশিয়া এতদিন ইরানের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক পৃষ্ঠপোষক ছিল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সবসময়ই ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির অধিকারকে সমর্থন করে এসেছে ইরান। কিন্তু এবার সেই অবস্থান পাল্টে গোপনে ‘শূন্য সমৃদ্ধিকরণ’ চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন পুতিন।

তিন ইউরোপীয় ও একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো ইরানকে কূটনৈতিকভাবে উৎসাহ দিচ্ছে, যাতে তারা এই শর্ত মেনে নেয়। পুতিনের এই অবস্থান ইসরায়েল সরকারকেও জানিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা নিশ্চিত যে, পুতিন ইরানিদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ একেবারে বন্ধ করতে বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিষয়টি জোরালোভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা ইরানের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তি চায়। তবে সেই চুক্তির ভিত্তি হবে, ইরানে আর কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না হওয়া।

ইরানও তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছে, কোনো চুক্তির অধীনেও তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির অধিকার ছাড়বে না। ফলে চুক্তি নিয়ে মতপার্থক্য আবারও গভীর হচ্ছে।

এই অবস্থায় পুতিনের অবস্থান আরও বিস্ময়কর হয়ে উঠেছে, কারণ ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানই ছিল রাশিয়ার নির্ভরযোগ্য অস্ত্র সরবরাহকারী। ইরান রাশিয়াকে শত শত ড্রোন ও ভূমি থেকে ভূমিতে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছে। কিন্তু যখন ইরান নিজেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মুখোমুখি হলো, তখন কিছু বিবৃতি ছাড়া তেমন কোনো সমর্থনই দেয়নি রাশিয়া।

এই প্রেক্ষাপটে পুতিনের নতুন অবস্থান ইরানকে কিছুটা হতাশ করেছে। এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানান, “পুতিন চেয়েছেন ইরান যেন মার্কিনদের সঙ্গে আলোচনায় যেতে রাজি হয় এবং তাতে সুবিধা পেতে শূন্য সমৃদ্ধিকরণ গ্রহণ করে। কিন্তু ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই প্রস্তাব কখনোই মানবেনা।”

তবে রাশিয়া স্পষ্ট করেছে, যদি কোনো চুক্তি হয়, তারা ইরানের সব উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম তুলে নিতে প্রস্তুত। তারা এমনকি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইরানকে ৩.৬৭ শতাংশ মাত্রার ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে তারা এবং ২০ শতাংশ ইউরেনিয়াম দেবে গবেষণা চুল্লি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নিউক্লিয়ার আইসোটোপ তৈরির জন্য।

এদিকে হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে অসলোতে বৈঠকের পরিকল্পনা থাকলেও এখন সেই পরিকল্পনা স্থগিত হয়েছে।

সব মিলিয়ে রাশিয়ার অবস্থান বদলে যাওয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষই নতুন করে হিসাব-নিকাশে যাচ্ছে। সামনে কোনো চুক্তি হলে, ‘শূন্য সমৃদ্ধিকরণই হতে পারে সবচেয়ে বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিজ্ঞাপন


পড়ুন: ইরানকে পারমাণবিক চুক্তি করার জন্য আগস্ট পর্যন্ত আলটিমেটাম

এস/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন