বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ,গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মরহুম অধ্যাপক এম এ মান্নানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুবার্ষিকীর এই দিনে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে গাজীপুরবাসী।
দিনটি উপলক্ষে গাজীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য, অধ্যাপক এম এ মান্নানের ছেলে এম মঞ্জুরুল করিম রনি তার কবর জিয়ারত সহ একাধিক দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন। গাজীপুর মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রয়াত নেতার স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
মরহুম অধ্যাপক এম. এ. মান্নান গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে বিপুল ভোটে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তৎকালীন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রোষানলে পড়েন। একের পর এক মিথ্যা ও রাজনৈতিক হয়রানীমূলক মামলায় গ্রেফতার ও কারাবাসের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতাসহ নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিৎিসাধীন ছিলেন।
অধ্যাপক এম এ মান্নান ১৯৫০ সালের ৭ এপ্রিল গাজীপুরের দক্ষিণ সালনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কছিম উদ্দিন আকন। তিনি সালনা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক, ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি ও ডিগ্রি পাস করেন। কলেজ জীবনের শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত রসায়নে এমএসসিতে ভর্তি হন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে টঙ্গী কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু।
অধ্যাপক এম এ মান্নান ১৯৭৮ সালে অধ্যাপনা থেকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলে (জাগদল) যোগ দিয়ে রাজনৈতিক জীবনে পদার্পন করেন। যা ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে এম এ.মান্নান দলের সদস্য থেকে শুরু করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে মান্নান দলের ভাইস চেয়ারম্যান হন।
অধ্যাপক মান্নান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে দলীয়ভাবে সালনা গ্রাম সরকার প্রধানের দায়িত্ব পান তিনি। পরে জাতীয় গ্রাম সরকারের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিবেরও দায়িত্বে ছিলেন। তবে, অধ্যাপক মান্নানের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে রাজনৈতিক উত্থান শুরু।
অধ্যাপক মান্নান ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ (গাজীপুর সদর ও টঙ্গী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে এম এ মান্নান দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য হিসাবে বিজয়ী হওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তাকে তৎকালীন সরকারের ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করেন। পরে তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ২০০১ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠিত হলে, তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচনে ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদন্বন্ধীতা করেন। তিনি মেয়র প্রার্থী হিসেবে টেলিভিশন প্রতীকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।
গাজীপুর নানা শ্রেণি পেশার মানুষ আজ অধ্যাপক এম এ মান্নানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ ও তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছে।
পড়ুন- ওপেক থেকে বেরিয়ে গেল আমিরাত, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ধাক্কা


