নোয়াখালীর আলোচিত স্কুল ছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায়ের তারিখ পিছিয়ে ২৯ এপ্রিল নির্ধারণ করেছে আদালত।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এই তারিখ নির্ধারণ করেন বলে জানিয়েছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী এমদাদ হোসেন কৈশোর।
তিনি বলেন, বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও এজলাসে বসেই রায়ের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেছেন বিচারক।
নিহত তাসনিয়া হোসেন অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুরের প্রয়াত রিয়াজ হোসেন সরকার ও রাজিয়া সুলতানা দম্পতির মেয়ে। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১৪ বছর।
রিয়াজ হোসেন ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় মারা যান আর রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। লক্ষ্মীনারায়ণপুরের জাহান মঞ্জিলে দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন রাজিয়া।
ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি (পিপি) মো. সেলিম শাহী বলেন, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় নিজ বাসা থেকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী অদিতার গলা ও হাত, পায়ের রগ কাটা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছিল করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে স্কুলে যায় অদিতা। ১২টার দিকে প্রাইভেট শেষে সে বাসায় ফিরে একাই ছিল। সন্ধ্যায় তার মা রাজিয়া বাড়িতে ফিরে ঘরের মূল দরজায় তালা দেখতে পান।
তালা খুলে ভেতরে ঢুকে সামনের কক্ষের আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। অন্য রুমের বিছানায় অদিতার অর্ধনগ্ন, গলা ও দুই হাতের রগ কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
এ ঘটনার পর পুলিশের একাধিক দল পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ও অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনিসহ (৩০) চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
পরে নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন রনি। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশ’সহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ।
মামলাটি তদন্তের পর অন্যদের অব্যাহতি দিয়ে রনিকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এ মামলায় বাদী পক্ষের ৪১ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এছাড়া আসামি পক্ষের ৫ জন সাফাই সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন বিচারক।
আলোচিত এ হত্যার বিচার দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
মামলার বাদী অদিতার মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি, যেন এটা একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।


