উন্নয়নমূলক কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ‘নয়ছয়’ মেনে নেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, “ঠিকাদার কে, তা আমি দেখতে চাই না। আমি রাস্তার কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা চাই। যারা দুর্নীতি করবেন, তাদের দয়া করে এ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে।”
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় পাঁচগাঁও (নাল্লাপাড়া) এলাকায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ আরসিসি গার্ডার ব্রীজ পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণায় এসে অবহেলিত এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজটি আমার নজরে আসে। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, ব্রীজের নিচে কোনো মাটি নেই। যে কোনো সময় ব্রীজটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি ঘটতে পারে। তাই নির্বাচিত হওয়ার পরই আমি ব্রীজটির বিষয়ে উদ্যোগ নিই।”
তিনি জানান, এলজিইড’র চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং সচিব বরাবর আবেদনের প্রেক্ষিতে এখানে নতুন ব্রীজ নির্মাণের প্রকল্প পাশ হয়েছে। তবে নতুন ব্রীজ নির্মাণের আগ পর্যন্ত দুর্ঘটনা এড়াতে সাময়িক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নয় লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে পাইপ দিয়ে প্রোটেকশন বা অস্থায়ী সাপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় তিনি দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলায় সাম্প্রতিক ব্যাপক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, গত মাত্র দুই মাসের মধ্যে এ এলাকায় প্রায় ১৮ থেকে ১৯ কোটি টাকার পাঁচ-ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কাজের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কলমাকান্দা থেকে নাজিরপুর, রংছাতি মোড় থেকে পাঁচগাঁও, কলমাকান্দা বাজার থেকে চত্রংপুর-রঘুরামপুর এবং দুর্গাপুরের চায়না মোড় থেকে আত্রাইখালী ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তার কাজ।
কাজের মান নিয়ে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে তিনি কঠোর বার্তা দেন। নাজিরপুরে রাস্তা থেকে ইট উঠে যাচ্ছে ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সরকারি চাকরি যারা জনগণের স্বার্থে করবেন, তারাই এখানে থাকবেন। যারা কাজে নয়ছয় করার মানসিকতা রাখেন, তারা চলে যান, আমি যেতে সাহায্য করব।”
উন্নয়ন কাজের শতভাগ মান নিশ্চিত করতে তিনি স্থানীয় প্রশাসন, ঠিকাদারদের পাশাপাশি সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণকেও সজাগ থেকে তদারকি করার আহ্বান জানান।
ব্রীজ পরিদর্শনকালে জেলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়েহিদুজ্জামান, ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলামসহ এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : জনগণ রোগী, প্রশাসন ডাক্তার আর আমি সেবক; ‘পার্সেন্টেজ সংস্কৃতি’ থাকবে না: ডেপুটি স্পিকার


