কাতারের রাজধানী দোহায় সম্প্রতি একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব হযরত আলী খান হোটেলের সামনে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি রেমিট্যান্স উপার্জনকারীদের সঙ্গে আন্তরিক সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে প্রবাসীদের দেশপ্রেম, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যায়।
রাষ্ট্রদূত হযরত আলী খানের এ ধরনের উদ্যোগ তাঁর নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ। প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, তাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং সমস্যাবলি শোনা—এসব বিষয় তিনি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে আসছেন। তাঁর এই মানবিক ও আন্তরিক আচরণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত প্রবাসীরা রাষ্ট্রদূতকে ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং নিজেদের প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, বিদেশে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েও দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা অটুট রয়েছে। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
রাষ্ট্রদূতের সরকারি গাড়িতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়তে দেখে প্রবাসীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা জানান, বিদেশের মাটিতে লাল-সবুজের পতাকা দেখতে পাওয়া তাদের হৃদয়ে এক গভীর অনুরাগ ও গর্বের অনুভূতি জাগ্রত করে। এ দৃশ্য ছিল দেশপ্রেমের এক অনন্য ও হৃদয়স্পর্শী বহিঃপ্রকাশ।
রাষ্ট্রদূত এ সময় প্রবাসীদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, “প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের কঠোর পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের ফলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে এবং তাদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে কাতারে প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। বিশেষ করে নির্মাণ, সেবা, পরিবহন ও ডেলিভারি খাতে কর্মরত এই প্রবাসীরা নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিচ্ছেন।
এদিকে প্রবাসীদের মানসিক প্রশান্তি ও বিনোদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের দোহা কাতারের উদ্যোগে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। কাতারের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে প্রবাসীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, প্রবাসীদের কর্মব্যস্ত জীবনে এমন আয়োজন কিছুটা স্বস্তি এনে দেয় এবং তাদের মানসিক চাপ লাঘবে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়রাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এটি তাদের প্রবাস জীবনে এক টুকরো আনন্দ ও স্বস্তির উপলক্ষ তৈরি করেছে।
এই সাক্ষাৎ ও আয়োজনগুলো প্রমাণ করে, প্রবাসীদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক বন্ধনের এক শক্তিশালী প্রতিফলন।
কাতারে বসবাসরত সকল বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাদের নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ ও দেশপ্রেমেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ—গড়ে উঠছে এক সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী ভবিষ্যৎ।
পড়ুন- ফের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি, হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের ১২ যুদ্ধজাহাজ, ১০০ বিমান
দেখুন- ভারতের সংসদে পাস হলো ট্রান্সজেন্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল


