২০০৬ সালে প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপ প্রকল্প নামে
ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে গাজীপুরের ভোগড়া থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ হয়ে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের এবং ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযোগ ঘটিয়ে তৈরী হয় ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক। একদিকে ২০ বছর ধরে নির্মাণ ভোগান্তি, অন্যদিকে টোল ফাঁকি দিয়ে পার্শ্বলেনে যানবাহন চলাচল করায় রাজস্ব হারাচ্ছে সেতু, সড়ক ও জনপদ বিভাগ। আবার টোল বাঁচাতে গিয়ে যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা ডাকাতির কবলে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। তাই অনেকেই ঢাকা বাইপাসকে নাম দিয়েছেন ভোগান্তির যাত্রাপথ।
রাজধানীর সড়কগুলোর যানজট এড়াতে ৬-লেনের মহাসড়ক তৈরীতে পিপিপি প্রকল্প কাজ করছে প্রায় ২০ বছর ধরে । ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে নেয়া হয়েছে চিনদেশসহ বৈদেশিক ঋণ। ইতিমধ্যে গাজীপুরের অংশ
২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট চালু হয়। কিন্তু রূপগঞ্জ অংশে কাজ চলে ঢিলেঢালা। ফলে কাঞ্চন ব্রিজের অংশে তীব্র যানজট, গাউছিয়া ও পূর্বাচল অংশে ডাকাতি, ছিনতাই, মদনপুর অংশে মালামাল লুটের কবলে পড়েন মালবাহী ট্রাক চালকরা৷ আবার টোলের পরিমান বৃদ্ধি করায় স্থানে স্থানে টোল দিতে দিতে অতিষ্টের কথা জানালেন সংশ্লিষ্ট চালকরা।
বেলদী এলাকার বাসিন্দা জাহিদ সিকদার বলেন, গত ২০ বছর ধরে একপাশের মাটি অন্যপাশে নিচ্ছে। কখনো পাকা, কখনো খানাখন্দ এভাবেই সড়কটি নকশা পরিবর্তন করে সারা বছরই কাজ চলে। সবশেষে ৬ লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান থাকলেও নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। গাজীপুর অংশ নির্মাণ হলেও রূপগঞ্জ অংশে কাজ বাকি। এতে ভোগান্তি বেড়েই চলছে। আমরা গাড়ী নিয়ে এখনো যানজটের শিকার হই।
সূত্রমতে সড়কটিতে ২০০৬ সাল থেকে লেন বাড়ানোর কাজ চলমান। পূর্বাচলের পলখান অংশে স্থানীয় বাসিন্দারা আন্ডারপাসের দাবী করলেও রহস্যজনক তা বাস্তবায়ন হয়নি। একই কারনে ঢাকা বাইপাসের দীর্ঘ সময় ধরে নির্মাণ কাজের জন্যে গত ২০ বছরেও সড়কের সুবিধা ভোগ করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি সড়ক অঞ্চল নিরাপদ করার দাবীও করেন তারা৷ স্থানীয় বাসিন্দা ও নিঝুম পল্লি রিসোর্টের মালিক আবুল হোসেন বলেন, পলখান এলাকায় ঢাকা বাইপাস সড়কে আন্ডারপাসের দাবী করলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, প্রকৌশলীরা রহস্যজনক আচরন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আন্ডারপাস না দেয়ায় দূর্ঘটনার কবলে পড়ছে সাধারণ যাত্রীরা। পাশাপাশি স্থানীয়দের পারাপারের অসুবিধা হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা বাইপাস সড়কে টোল ফাঁকি দিয়ে পার্শ্ব লেনে যান চলাচল করায় মূল এক্সপ্রেসওয়ের টোল লেনগুলো প্রায়শই খালি থাকছে। অন্যদিকে পার্শ্ব লেনে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। টোল দেওয়ার অনিচ্ছা এবং অনেক ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও চালকদের টোল লেনে যেতে বাধ্যবাধকতার নিয়ম নেই বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তবে হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক নিরাপত্তায় কাজে নিয়োজিতরা তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা৷
মেঘনা গ্রুপে মালামাল বহনে কর্মরত ট্রাক চালক ইলিয়াস হোসেন বলেন, গাউছিয়া থেকে কাঞ্চন ব্রিজে একটি ট্রাককে ১৩০ টাকা টোল দিতে হয়। একই ট্রাক আবার মিরেরবাজার এলাকায় ঢাকা বাইপাস সড়কের ৬৬০ টাকা টোল দিতে হয়। আবার তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মালিকপক্ষ টোলের খরচ দিতে চাননা৷ এসব কারনে টোল এড়িয়ে সার্ভিস লেন ব্যবহার করি।
এসব বিষয়ে কথা হলে হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান বলেন হাইওয়ে পুলিশ ঢাকা বাইপাস অঞ্চলে কাজ করছি। ৪৮ কিলোমিটারে মাত্র ৩ টি টীম কাজ করে। ফলে পর্যাপ্ত সদস্য না থাকায় মাঝোমধ্যে দুষ্কৃতিকারীরা ট্রাক ড্রাইভারদের উপর হামলা করে বলে শুনি। কিন্তু অভিযোগ না পেলে আইন ব্যবস্থা নিতে সমস্যা হয়। তারপরও আমাদের টহল জোরদার রয়েছে।
এসব বিষয়ে কথা হলে ঢাকা বাইপাস সড়কে দায়িত্বরত পিপিপি প্রকল্পের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা ফরিদুল হক বলেন, টোল ফাঁকি দেয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। এটি আসলে আমাদের নিয়ন্ত্রণের উপায় নেই। বাধ্য করারও এখতিয়ার নেই। তবে যানবাহনের বেশি ওজন হলে পার্শ্বলেন বা সার্ভিস লেনে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। আর টোল বেশি মনে হলে তা কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবেন।
সচেতন মহল মনে করছেন গাজীপুরের ভোগড়া থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার সড়কটি পূর্বে ২-লেনের সড়ক ছিল, যা বর্তমানে ৬-লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে পরিণত হচ্ছে৷ পিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) প্রকল্পের আওতায় চীন-বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করছে এই প্রকল্পটিতে৷ পুরোপুরি চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মধ্যে সংযোগ সহজতর হবে।
পড়ুন:দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা
দেখুন:হাইডেলবার্গ: বাস্তবের চেয়েও সুন্দর?
ইমি/


