স্মার্ট ও বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং বিজ্ঞানবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফিতা কেটে বিজ্ঞান মেলার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা।
ফিতা কাটার পর তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তৈরি বিজ্ঞান প্রজেক্টের স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উৎসাহ প্রদান করেন। এরআগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিপা বিশ্বাস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. বজলুর রহমান আনছারী, একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইমাম হাসান আবু চাঁন প্রমুখ। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, এবারের বিজ্ঞান মেলায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মোট ১৭টি স্টল স্থান পেয়েছে। স্টলগুলোতে ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা তাদের নিজস্ব উদ্ভাবনী চিন্তাধারা কাজে লাগিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন চমকপ্রদ বিজ্ঞানভিত্তিক মডেল ও প্রযুক্তি নির্ভর প্রজেক্ট প্রদর্শন করছে। এর মধ্যে পরিবেশবান্ধব নগরায়ন, সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার, ডিএনএ (DNA) মডেল, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো যুগোপযোগী বিভিন্ন প্রজেক্ট দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। অতিথিবৃন্দ প্রতিটি স্টলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন সম্পর্কে বিস্তারিত শোনেন এবং তাদের সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিজ্ঞান মেলার পাশাপাশি দুর্গাপুর দ্বীনি আলিম মাদরাসায় ১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং ১০ম বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার পর্দা নামবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলা, অলিম্পিয়াড এবং কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতেই প্রতি বছর এমন মেলার আয়োজন করা হয়।


