নরসিংদীর মাধবদীতে পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৭২ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাধবদী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের দুজনকে নরসিংদীর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে, বিকেলে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন।
মাধবদী থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৬ এপ্রিল প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই ইউসুফ আহম্মেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাধবদী থানাধীন টাটাপাড়া এলাকায় ইসলাম সিএনজি পাম্পের সামনের রাস্তায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হানিফ ইসলাম (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার প্যান্টের পকেট তল্লাশি করে ৪১ পিস কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১২,৩০০ টাকা। গ্রেপ্তারকৃত হানিফ কুমিল্লার কোতোয়ালি থানাধীন কৃষ্ণপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় মাধবদী থানায় মামলা (নং-৩০) রুজু করা হয়েছে।
একই দিন রাতে দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালনা করে পাঁচদোনা পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল। ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই ইউসুফ আহম্মেদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে মাধবদী থানাধীন আমদিয়া গ্রামের রতনের মুদি দোকানের সামনের রাস্তায় অভিযান চালান। সেখান থেকে মো. জুয়েল মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে লুঙ্গির কোঁচড় থেকে ৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৯,৩০০ টাকা। গ্রেপ্তার জুয়েল মাধবদীর আমদিয়া গ্রামের মৃত আবু তাহেরের ছেলে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত জুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে ডিএমপির মিরপুর মডেল থানায় ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা (এফআইআর নং-৬০, তারিখ-১৪ অক্টোবর ২০১৩) আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাধবদী থানায় অপর একটি মামলা (নং-৩২) দায়ের করা হয়েছে।
উভয় আসামির বিরুদ্ধেই ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর ১০(ক) ধারায় মামলা রুজু করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
ওসি মো. কামাল হোসেন আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে মাঠে রয়েছে পুলিশ। আমাদের এমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোটরসাইকেল বোঝাই করে গাঁজা পাচারের চেষ্টা, মা-ছেলে গ্রেফতার


