মালির রাজধানী বামাকোসহ বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র বন্দুকধারীরা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে, একাধিক গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকালে সেনাবাহিনী জানায়, তারা ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর’ বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বামাকোসহ দেশটির অন্যান্য এলাকায় সেনা ব্যারাকে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
রাজধানী বামাকোর বাইরে অবস্থিত মালির প্রধান সামরিক ঘাঁটির কাছে স্থানীয় সময় সকাল ৬টার কিছু আগে দুটি বিকট বিস্ফোরণ এবং টানা গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে মধ্য মালির সেভারে শহর, উত্তর মালির কিদাল শহর এবং গাও নগরীতেও একই ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেন, ‘চারদিকে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।’
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক সাংবাদিক জানান, বামাকোর মোদিবো কেইতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ভারী অস্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের গুলির শব্দ শোনা গেছে। বিমানবন্দরটি শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কাছাকাছি এলাকায় একটি হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছিল।
স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ মালি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সশস্ত্র অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। দেশটিতে পশ্চিম আফ্রিকাভিত্তিক আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের সহযোগী গোষ্ঠীগুলো একের পর এক হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি উত্তরে তুয়ারেগ নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহেরও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
২০২০ ও ২০২১ সালে দুটি সামরিক অভ্যুত্থানের পর সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে মালি। তখন দেশটি থেকে ফরাসি বাহিনী ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনকে বহিষ্কার করা হয়।
গত বছরের জুলাইয়ে সামরিক কর্তৃপক্ষ অভ্যুত্থান নেতা গোইতাকে পাঁচ বছরের প্রেসিডেন্ট ম্যান্ডেট দেয়। এই ম্যান্ডেট নির্বাচন ছাড়াই ‘প্রয়োজন অনুযায়ী যতবার দরকার’ নবায়ন করা যাবে।
সূত্র: আল জাজিরা
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

