শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলেই দেশের কৃষি সেচ ব্যবস্থা ও বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে শ্রমবাজারের শক্ত ভিত্তি রচিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এমপি। শুক্রবার বেলা ১১টায় মহান মে দিবস উপলক্ষে জয়পুরহাটের কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকার খুব অল্প সময় সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি সর্বপ্রথম দেশের কৃষক ও মেহনতী শ্রমিকদের নিয়ে চিন্তা করেছিলেন। কৃষকের ভাগ্য বদলাতে সেচ কাজের জন্য পাম্পের সাহায্যে পানি তোলার যে আধুনিক ব্যবস্থা, অর্থাৎ বিএডিসি থেকে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন- এটি তাঁর সময়েই প্রথম চালু হয়েছিল। এছাড়া বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা দূর করতে এবং কৃষির উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচিও তাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তার ফসল।
বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সৃষ্টির ইতিহাস স্মরণ করে আব্দুল বারী এমপি বলেন, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর যে বিশাল কর্মযজ্ঞ, সেটি শহীদ জিয়ার আমলেই চালু হয়। মূলত দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের জীবনমান কীভাবে উন্নত করা যায়, সে লক্ষ্যেই তিনি এসব যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন।
মে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও জানান। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, যে শ্রমিকের রক্ত-ঘামে শহর-বন্দর গড়ে ওঠে, তারাই নিজেদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি উন্নয়নমূলক কাজেও শ্রমিকদের দৈনিক নির্ধারিত মজুরি কেটে রাখা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যে শ্রমিক নিজের হাতে স্কুল নির্মাণ করেন, সেই স্কুলেই তার সন্তানের পড়ার সুযোগ হয় না।
প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের এই প্রাপ্য অধিকার তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। রাষ্ট্রের সম্পদ যেন কেবল একটি বিশেষ শ্রেণি ভোগ করতে না পারে এবং তা যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সরকার সেই ব্যবস্থা করছে।
সরকার সাধারণ মানুষ, কৃষক, মেহনতী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড ও দরিদ্রদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের সকল পেশা ও শ্রেণির মানুষ ভবিষ্যতে একটি সম্মানজনক অবস্থান নিয়ে বসবাস করতে পারবে।
এসময় উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ওসমান গনির সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির নেতা আনিছুর রহমান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মৌদুদ আলম সরকার, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আ. আলীম প্রমুখ।
এদিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কালাই পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপন করেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এমপি।
পড়ুন:মোহাম্মদপুর থানার তিন পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার
দেখুন:‘ঋণ খেলাপি’ নিয়ে সংসদে যা বললেন অর্থমন্ত্রী
ইমি/


