সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার দুর্গম যমুনা চরাঞ্চলে এ বছর শুকনা মরিচের বাম্পার ফলন কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। ‘লাল সোনা’ নামে পরিচিত এই মরিচের ভালো ফলন ও বাজারদর—দুটোই চাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
কাজিপুর উপজেলা একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে ৬টি ইউনিয়ন যমুনা নদীর চর এলাকায় অবস্থিত। এসব চরাঞ্চলে প্রতিবছরই নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে জীবনযাপন করতে হয় বাসিন্দাদের। একসময় বিস্তীর্ণ বালুচরে ফসল উৎপাদন প্রায় অসম্ভব ছিল, ফলে মানুষের জীবনে ছিল অভাব-অনটন। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতি ও নতুন পলিমাটির কারণে সেই চিত্র এখন বদলে গেছে। চরাঞ্চলের উর্বর মাটিতে নানা ফসল উৎপাদন করে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে কাজিপুরে প্রায় ৪৪০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে, যার প্রায় ৭০ শতাংশই চরাঞ্চলে। নতুন পলিমাটিতে মরিচের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বেড়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই তারা মরিচ চাষ শুরু করেন এবং নিয়মিত কৃষি বিভাগের পরামর্শ গ্রহণ করেন। এ বছর স্থানীয় জাত ছাড়াও বেড গোল্ড, বিজলী প্লাস ও বালিজুরি জাতের মরিচ চাষ হয়েছে।
নাটুয়ারপাড়া গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম জানান, তিনি ১ বিঘা জমিতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে মরিচ চাষ করেছেন। বর্তমানে বাজারে শুকনা মরিচ প্রতি কেজি ৫৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, এতে তিনি প্রায় ৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
অন্যদিকে ভেটুয়া চর এলাকার কৃষক ময়নাল হোসেন বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে এক মণ কাঁচামরিচ বিক্রি করেছেন এবং আরও দুই মণ মরিচ শুকিয়ে সংরক্ষণ করেছেন। বর্তমান বাজারদরে এসব মরিচ বিক্রি করে প্রায় এক লাখ টাকা আয় সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
সব মিলিয়ে, যমুনা চরাঞ্চলের মরিচ চাষ এ বছর কৃষকদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
পড়ুন- সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ আজ
দেখুন- বিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী


