বিজ্ঞাপন

ভোটারের বয়স ১৬, এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিশ্রুতি এনসিপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এতে ভোটাধিকারের বয়স ১৬ বছর করা, আগামী পাঁচ বছরে দেশে এক কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, ব্যবসার রাজনৈতিক ব্যয় শূন্যে নামাতে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং এককালীন তহবিল দিয়ে রিভার্স ব্রেন ড্রেইন (মেধাবীদের দেশে ফেরানো) করাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

বিজ্ঞাপন

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এনসিপির ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ প্রকাশ করা হয়। ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো উপস্থাপন করেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এনসিপির জন্য একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। যখন আমরা গণঅভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ২০২৪ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছি, সেই দল একটি জোট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ইলেকশনে অংশগ্রহণ করছে। এখানে কতগুলো বিষয় আসছে যেগুলো পুরো এনসিপির জার্নির সঙ্গে রিলেটেড। আমরা যখন জাতীয় নাগরিক পার্টি শুরু করি, আমরা কতগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়ে, ঘোষণাপত্র দিয়ে শুরু করেছিলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের দলের নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। আমাদের যেই চিন্তা বা আদর্শের জায়গাটা, সেটাও গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, আমরা আগস্টে শহীদ মিনারে স্পষ্টত কয়েকটি কথা বলেছিলাম। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং একটা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত অর্থাৎ আমরা একটা ফ্যাসিবাদী যে সিস্টেম গত ১৬ বছরে তৈরি হয়েছে, গত ৫০ বছরে স্বাধীনতার পর থেকেই যে ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে এবং যেটার কারণে আমরা প্রকৃত গণতন্ত্রে কখনো পৌঁছাতে পারি নাই।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, শেখ হাসিনার সময় বা বিগত রেজিম এদের একটা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল, আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল এবং আমাদের জাতীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছিল, জুলাইয়ের পরিস্থিতিতে সারা দেশের মানুষকে রাজপথে নিয়ে এসে সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম। এই ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করে একটা নতুন বন্দোবস্ত করতে হবে, যে বন্দোবস্তটা বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এটা গণতন্ত্র নিশ্চিত করবে। অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করবে। এটা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ আমাদের জন্য নিশ্চিত করবে। আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য– সেগুলাকে লক্ষ্য করে আমরা জাতীয় মর্যাদা নিয়ে বিশ্বের বুকে দাঁড়াতে পারব। এটা ছিল আমাদের প্রাথমিক আকাঙ্ক্ষা। সেই জায়গা থেকে অন্তর্বর্তী সরকার এবং গত দেড় বছরের অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আমরা আজকের পরিস্থিতিতে আছি।

তিনি বলেন, আমরা জোট করার ফলে এই প্রশ্নটা অনেকবার এসেছে। পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে। আমরা আমাদের নতুন বন্দোবস্তের যে লড়াই বা যে দাবি নিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম, আমরা এখনো সেই দাবিতেই আছি।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রথমত আমাদের লক্ষ্য ছিল যে সাংবিধানিক পরিবর্তন। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে একটা সংস্কারে এসে মধ্যস্থতা হয় কমিশনের মাধ্যমে, সেখানে আমরা আমাদের পরিপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারিনি। নতুন বন্দোবস্তের যে আকাঙ্ক্ষাটা সেটা আমরা এখন একটা দীর্ঘমেয়াদি লড়াই হিসেবে দেখি, দীর্ঘমেয়াদি যাত্রার মধ্যে অর্জন করতে হবে।

নাহিদ আরও বলেন, আমরা অনেক অপরচুনিটি মিস করেছি কিন্তু এই সময় আমাদের অনেক সম্ভাবনা এবং আমাদের অনেক কিছু অর্জন হয়েছে। ফলে সংস্কারের অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি আমরা পেয়েছি, যেটা নির্বাচনে গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে এবং আমরা নতুন বন্দোবস্তে সেই লড়াইয়ের দিকে যাব।

তিনি বলেন, এই জোট প্রক্রিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, আমাদের এই যে লক্ষ্য নতুন বন্দোবস্তের, পুরোনো দলের সঙ্গে জোট করার ফলে লক্ষ্য থেকে আমরা সরে এলাম কি না। আমরা এটা স্পষ্ট করেছি যে, আমাদের জোটটার ন্যূনতম কিছু রাজনৈতিক জায়গায় ঐকমত্য রয়েছে এবং মূলত এটা নির্বাচনী একটা জোট। এই জোটের নামও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। আমাদের চেষ্টা থাকবে এই জোটের মধ্য দিয়ে আমাদের সংস্কারের যে দাবি, আমরা সেটাকে বাস্তবায়ন করব। আমাদের প্রায়োরিটি আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। এ কারণে আমরা এনসিপির পক্ষ থেকে একটা আলাদা ইশতেহার দিচ্ছি, জামায়াতে ইসলামী তাদের একটা ইশতেহার দিয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ২৪ এর প্রজন্ম, একটা নতুন প্রজন্ম আকারে বাংলাদেশে আবির্ভূত হয়েছে। রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক জায়গায় আমরা এই প্রজন্মকে কীভাবে কাজে লাগাব। এ কারণে তারুণ্য আমাদের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা, সেকেন্ড হচ্ছে মর্যাদা বা ডিগনিটি। কারণ আমরা মনে করি যে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল ডিগনিটি। নাগরিক অধিকার, নাগরিক মর্যাদা বারবার ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল ফ্যাসিবাদের সময়ে। মানুষের ন্যূনতম মানবাধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার আমরা গত ১৬ বছর পাইনি। প্রাণ-প্রকৃতির সুরক্ষা ছিল না। ফলে জাতীয় মর্যাদা এবং নাগরিক মর্যাদা এই দুইটা আমাদের প্রধান বিষয়।

পড়ুন : ৩৬ দফার ইশতেহারে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চায় এনসিপি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন