বিজ্ঞাপন

দাঁড়িপাল্লার পক্ষে মা-বোনেরা ঐক্যবদ্ধ, ১২ তারিখ ফল দেখতে পাবেন : জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির পক্ষে কাজ করতে গিয়ে যারা আমাদের মা-বোনদের অবমাননা করতে চায়, তারা মানুষ নয়। আল্লাহ না করুন, তারা যদি ক্ষমতায় আসে তবে দেশের পরিবেশ কেমন হবে তা সহজেই অনুমেয়। তবে দেশের মা-বোনেরা আজ ঐক্যবদ্ধ, আগামী ১২ তারিখ নির্বাচনের মাধ্যমেই আপনারা এর ফল দেখতে পাবেন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি কখনো ভাবেনি ফ্যাসিস্টরা এভাবে অপদস্ত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হবে এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাড়ে ১৫ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, তারাই ব্যাংক ডাকাতি, শেয়ারবাজার লুট এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই স্মৃতিঘরে স্বৈরাচারের ‘আয়না ঘর’-এর আদলে অনেক কিছু প্রদর্শন করা হচ্ছে। আগামীতে যারা দেশ পরিচালনার স্বপ্ন দেখেন, তাদের সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত যে—মানুষের ওপর জুলুম করলে কী পরিণতি হয়।

বিগত সরকারের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, জামায়াতের শীর্ষ ১১ জন নেতাকে মিথ্যা অভিযোগে হত্যা করা হয়েছে। এক হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে, বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবুও ৫ আগস্টের পর আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করিনি। দেশে শান্তি ফেরাতে আমাদের ১৫ লাখ নেতাকর্মী মন্দির ও ধর্মীয় উপাসনালয় পাহারা দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের মন্ত্রীরা নিজেদের সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়ে দেশের মানুষের রক্ত নিয়ে খেলেছেন। অনেককে হত্যা করে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্মায় ফেলা হয়েছে। এমনকি লাশ কেটে মাছের খোরাক বানানোর মতো নৃশংসতাও চালানো হয়েছে।

একটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনায় জামায়াত আমির বলেন, আমরা আশা করেছিলাম তারা জুলাই বিপ্লবকে সম্মান করবে, কিন্তু তারা শহীদ পরিবারকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে। তারা জুলাই সনদ ও সংস্কারের গণভোটের প্রস্তাবকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু জনগণের চাপে এখন পিছু হটেছে। জুলাই না হলে তো ২০২৬ সালে নির্বাচনের সুযোগই আসত না।

ডা. শফিকুর রহমান দৃঢ়ভাবে বলেন, আমরা বাংলাদেশকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত করব এবং মা-বোনদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করব। যারা আমাদের ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ বলে সমালোচনা করেন, তাদের আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখার পরামর্শ দিচ্ছি।

গণভোটের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম নির্বাচন ও সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে গণভোটটি আগেই হোক। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি আর ‘না’ মানে গোলামি। আমরা আবরার ফাহাদ ও শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির স্বপ্ন অনুযায়ী একটি আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চাই।

বক্তব্য শেষে তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন এবং ঘোষণা করেন যে, এরাই জোটের একমাত্র মনোনীত প্রার্থী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল জব্বার, অ্যাডভোকেট মশিউল আলম এবং ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। এছাড়াও ঢাকা জেলার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াত আমিরের নির্বাচনি জনসভা আজ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন