জ্বালানি সংকটের মধ্যেও মৌলভীবাজারে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে দেদারসে, জেলায় বিদ্যুৎ ঘাটতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আর অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে চলা চার্জিং স্টেশন। এসব অবৈধ চার্জিং স্টেশন বন্ধে কিংবা সংযোগ বিচ্ছেদে কোন প্রদক্ষেপ নেই প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের। হয়না কোন অভিযানও।
জ্বালানি সাশ্রয়ে মৌলভীবাজারে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মাধ্যমে এসব অবৈধ যানবাহন চার্জার ব্যাটারির হওয়ায় প্রতিদিন প্রচুর বিদ্যুৎ এই খাতে ব্যয় হচ্ছে, ফলে মৌলভীবাজারে বিদ্যুতের চাহিদাও দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। বাড়তি চাপের ফলে জেলায় বেড়েছে লোডশেডিং। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এসবের মধ্যেও দেদারসে চলছে অনুমতি বিহীন অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং স্টেশন। এমনকি গ্রামের বাসাবাড়ির সংযোগ থেকেও প্রতিদিন অবৈধভাবে এসব রিকশার ব্যাটারি চার্জ হচ্ছে।
সরেজমিন বিভিন্ন চার্জিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, একটি অটোরিকশায় থাকে ১২ ভোল্টের ৪ থেকে ৬টি ব্যাটারি, যা পূর্ণ চার্জ হতে সময় লাগে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা। এতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে মাত্র ১টি অটোরিকশার পিছনে। নূন্যতম নিরাপওা ব্যবস্থা ছাড়াই অনুমোদন বিহীন এরকম অসংখ্য চার্জিং স্টেশন এখন গড়ে উঠেছে মৌলভীবাজারে।
লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি নির্দেশে জ্বালানি সংকটে সন্ধ্যা ৭টায় দোকান-পাট,ব্যবসা-প্রতিষ্ঠিান বন্ধ রাখতে হচ্ছে, কিন্তু এই অটোরিকশা কি জ্বালানি সংকটে কোন প্রভাব ফেলছে না, বিদ্যুতের গাড়ি চললে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে লাভ কি, সরকারের কাছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অভিলম্বে এসব রিকশা বন্ধের দাবি তুলেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, হোসাইন মোহাম্মদ সাব্বির বলেন, মৌলভীবাজারে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জিং স্টেশনের কোন অনুমতিই নেই, তবে এখানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয় বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আসলে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, এসব চার্জিং স্টেশন বন্ধে বিদ্যুৎ বিভাগ কোন প্রদক্ষেপ নিলে পুলিশ সহযোগিতা করবে এছাড়া প্রতিদিন অবৈধ যানবাহন আটক করে মামলা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মৌলভীবাজারে শুধু শহরেই চলে, প্রায় আড়াই হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। গ্রামাঞ্চল এবং জেলার উপজেলাগুলোতে এর সংখ্যা আর দ্বিগুণ। এখানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় অস্বাভাবিকভাবে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায়, বাড়ছে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ, এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি প্রভাব পড়ছে এ জেলার কৃষি কাজেও। তাই অচিরেই এসব বন্ধে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আর নিয়মিত অভিযান চালানোর জোর দাবি জানিয়েছেন মৌলভীবাজার বাসী।
পড়ুন- যেসব এলাকায় আজ টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
দেখুন- ইরান দেখালো তার আসল শক্তি


