বিজ্ঞাপন

ভালো হয়ে যাওয়ায়’ ক্ষোভ! নেত্রকোনায় কথা-কাটাকাটির জেরে যুবক খুন

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিস নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিস দুর্গাপুর পৌর শহরের তেরী বাজার এলাকার মৃত আব্দুল মৃধার ছেলে। এ ঘটনায় মূল ঘাতক নূর মোহাম্মদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরের দিকে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এ হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রাথমিক কারণ ও গ্রেপ্তারের বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুর্গাপুর পৌরশহরের তেরী বাজার এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩২ বছর এবং অভিযুক্ত ঘাতক নূর মোহাম্মদের বয়স ২০ বছর।

দুর্গাপুর থানার ওসি জানান, তারা দুজনে একসময় একসাথে চলাফেরা করত, মাদক সেবন করত এবং বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিল।

ঘাতক নূর মোহাম্মদের ভাষ্যমতে, সে সম্প্রতি অপরাধমূলক পথ ছেড়ে ‘ভালো হয়ে গিয়েছিল’। নিহত ব্যক্তি তাকে আবারও পুরনো পথে ডাকার চেষ্টা করত এবং তার ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করত। এ ঘটনার জের ধরে শনিবার রাতে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে নিহত ব্যক্তি তাকে মারতে আসে। তখন নূর মোহাম্মদ ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় ছুরি দিয়ে তার পেটে আঘাত করে।

রক্তাক্ত অবস্থায় কেলিস মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) প্রেরণ করেন। পরে রাতে মমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক কেলিসকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই সাঁড়াশি অভিযানে নামে দুর্গাপুর থানা পুলিশ। নিহত ব্যক্তির স্ত্রীর দেখানো মতে অভিযুক্তের বাড়ির আশপাশ থেকে প্রথমেই নূর মোহাম্মদের মা নূরনাহার এবং তার ভগ্নিপতি মাজেদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভগ্নিপতি সম্পর্কে ঘাতকের আপন ফুফাতো ভাই।

এরপর পুলিশ জানতে পারে যে, মূল ঘাতক নেত্রকোনা শহরের মালনী রোডে তার ভগ্নিপতির বাড়িতে পালিয়ে গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে আজ (রবিবার) ভোর রাত পৌনে ৩টার দিকে মালনী রোড এলাকা থেকে মূল ঘাতক নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নূর মোহাম্মদ জানায়, সে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি ক্ষেতের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। পরে তাকে সাথে নিয়ে এলাকায় অভিযান চালিয়ে ক্ষেত থেকে দেশীয় ছুরিটি উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পড়ুন:কাফরুলে ফ্রি পানির পাম্প উদ্বোধন

দেখুন:ইস্তাম্বুল: সোশ্যাল মিডিয়ার ছবির মতোই জাদুকরী? | 

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন