বিজ্ঞাপন

চুরির অভিযোগে দুই শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা দুই শিশু। ছোটটি অঝোরে কাঁদছে। বড় ভাইয়ের মাথার একাংশের চুল কাটা। এমনই একটি ঘটনার একাধিক ছবি মঙ্গলবার প্রতিবেদকের হাতে আসে, যা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর কলাগাছিয়া চরের বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ উঠেছে, দোকান চুরির অভিযোগে দুই শিশুকে মারধর করে বনের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার দুপুরে উপজেলার কলাগাছিয়া চরে অবস্থিত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ছবিতে দেখা যায়, গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা ওই দুই শিশু একে-অপরের ভাই। ছোট ভাই জিহাদ (৫) কান্নায় ভেঙে পড়েছে। বড় ভাই শামিমের (৭) মাথার একাংশের চুল কাটা হয়েছে। পুরো মাথা ন্যাড়া করা হয়নি, তবে আংশিকভাবে চুল কেটে দেওয়া হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, তোফায়েল দালালের মালিকানাধীন একটি দোকানের কর্মচারী আল আমিন প্রথমে দোকান চুরির অভিযোগে দিয়ে শিশু দুটিকে মারধর করেন। পরে তাদের গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন এবং বড় ভাই শামিমের মাথার একাংশের চুল কেটে দেন। পরে পরিবারের হস্তক্ষেপে শিশু দুটিকে ছেড়ে দেয়া হয়।

নির্যাতিত শিশুদের মা লাইলি বেগম বলেন, ‘আমি গিয়ে দেখি ওদের গাছে বাঁধা। আমাকে দেখে ওরা কান্নাকাটি করে। আমি বিষয়টি জানতে চাইলে আল আমিন বলে-চুরি করছে, তাই শাস্তি দিছি। আমার ছেলেরা লাকড়ি আনতে গিয়ে দোকানের পাশে একটা দড়ি পাইছে। সেই দড়ি আনতে গিয়েই তাদের চোর বানিয়ে মারধর, বেধে রাখা আর মাথা কামানো হয়েছে।’

নির্যাতিত দুই শিশুর বাবা স্বপন দালাল বলেন, ‘চুরির অপবাদ দিয়ে দুই শিশুকে মারধর করা হয়েছে। গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। একজনের মাথার চুলও কাটা হয়েছে। এসব জিজ্ঞেস করতে গেলে উল্টো হুমকি-ধমকিও দেয় আল আমিন।’

সোমবার রাতে এ ঘটনায় রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নির্যাতিত দুই শিশুর মা লাইলি বেগম। অভিযুক্ত আল আমিন রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সেনের হাওয়া গ্রামের ইউনুস মিয়ার ছেলে।

এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আল আমিনের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দোকান মালিক তোফায়েল দালালের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এই দুই ছেলে ঘটনার আগের দিনও আমার দোকানের তালা ভেঙে চুরি করেছে। আর রোববার রড দিয়ে তালা ভেঙে দোকানে ঢুকেছে, সেটা স্থানীয় জেলেরা আমাকে জানায়। পরে আমি ফোন করে আল আমিনকে সেখানে পাঠাই। আল আমিন ওদের গাছে বেঁধে রাখছে। কিন্তু কোন মারধর করেনি এবং মাথায় কামানোর বিষয়টিও সঠিক না। এরআগেও এই ছেলেরা এখানে দোকানপাট চুরি করেছে। যা আমরা স্থানীয়ভাবে সমাধান করেছি।’

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ইলিয়াছ হোসেন মুন্সি বলেন, এ ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পড়ুন- মদনে শিশু ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন