মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি উভয় দিক থেকে জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। শুক্রবার (২৯ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির জন্য কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেন তিনি।
ট্রাম্পের শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে কখনই পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করতে হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল ছাড়া উভয় দিক থেকে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাম্প জানান, প্রণালিতে যদি কোনো মাইন থেকে থাকে, তাহলে সেগুলোও দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে অনেক মাইন বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ শিগগিরই তুলে নেয়া হবে এবং বর্তমানে আটকে থাকা জাহাজগুলো নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে পারবে। তিনি দাবি করেন, প্রায় ১১ মাস আগে মার্কিন বি-২ বোমারু বিমানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধার করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সহযোগিতায় ধ্বংস করবে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স জানায়, সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ‘সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ’ এবং এ দাবি ইরান নাকচ করে দিয়েছে। সংস্থাটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, ট্রাম্প চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিকৃতভাবে তুলে ধরেছেন, যাতে তিনি একটি ‘ভুয়া বিজয়’ দেখাতে পারেন।
ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং হরমুজ প্রণালিতে টোলমুক্ত চলাচলের বিষয়টিও খসড়া চুক্তিতে নেই। তেহরানের অভিযোগ, ট্রাম্প তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা ইরানের বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করে দেয়া এবং লেবাননে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেননি।
সূত্র: আল জাজিরা
পড়ুন : যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননে ৫৫ শিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েল


