প্রসব বেদনার চেয়েও যখন পেটের ক্ষুধা বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন তাকে আর জীবন বলা যায় না। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বাক-প্রতিবন্ধী শফিকুলের পরিবারে এখন শুধুই হাহাকার। সাত সদস্যের পরিবারে নেই খাবার, নেই মাথার ওপর কোনো ছাদ। ক্ষুধার জ্বালায় ছোট ছোট সন্তানদের কান্নায় বিষাদে ভারী হয়ে আছে শফিকুলের আঙ্গিনা।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের মামুরদী গ্রাম। এই গ্রামেই বাস করেন বাক-প্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলাম। জন্ম থেকেই বিধাতা তাকে কথা বলার ক্ষমতা দেননি, কিন্তু দারিদ্র্য তাকে দিয়েছে বুকভরা হাহাকার। ৫ সন্তান নিয়ে সাত সদস্যের এই পরিবারে আজ শুধু অভাবের রাজত্ব।
এরই মধ্যে পরিবারে আসতে চলেছে আরও এক নতুন অতিথি। শফিকুলের স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অথচ এই আনন্দ সংবাদটিই এখন পরিবারের জন্য চরম দুশ্চিন্তার কারণ। যেখানে প্রতিদিনের আহার জোটে না, সেখানে অনাগত সন্তানের চিকিৎসা কিংবা পুষ্টি—সবই যেন দুঃস্বপ্ন।
জন্মগতভাবে বাক-প্রতিবন্ধী শফিকুলের কাজ করার ক্ষমতা নেই। পুরো সংসারের বোঝা এখন তার অসুস্থ স্ত্রীর কাঁধে। মানুষের দেওয়া জাকাত আর দান-খয়রাতে খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে টিকে আছে পরিবারটি। সরকারি সহায়তার জন্যেও দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন শফিকুল। কিন্তু ভাগ্যে জোটেনি একটি কার্ড বা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা। কর্মকর্তাদের অবহেলা আর উদাসীনতায় বারবার খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে।
একটু নিরাপদ আশ্রয়, দুবেলা খাবার আর উন্নত চিকিৎসার আশায় প্রহর গুনছে অসহায় এই পরিবারটি। সামান্য সহানুভূতি হয়তো বেঁচে থাকার নতুন রসদ জোগাবে শফিকুলের এই ছোট্ট জগতকে।
পড়ুন : একই স্কুলে অধ্যক্ষ দাবী ২ শিক্ষকের, আদালতের রায় নিয়েও শেষ হয়নি দ্বন্দ্ব


