ক্রুড অয়েলের সংকটে টানা তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি। শুক্রবার (৮ মে) সকালে সৌদি আরব থেকে আমদানি করা ক্রুড অয়েল দিয়ে চট্টগ্রামের এই শোধনাগারের কার্যক্রম শুরু হয়।
ইস্টার্ন রিফাইনারির উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) মামুনুর রশীদ খান জানান, সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেলের একটি চালান দেশে পৌঁছেছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার টন তেল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কারিগরি সমন্বয়ের কারণে শুরুতে উৎপাদন সীমিত রাখা হলেও পরে তা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।
তিনি আরও জানান, শোধনাগারের জন্য সৌদি আরব থেকে আসা ‘এমটি নাইনেমিয়া’ জাহাজটি কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে। জাহাজটিতে এক লাখ ৯৪ টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে মজুত থাকা তেল দিয়ে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ দিন শোধন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে। আগামী ২০ মে নতুন করে অপরিশোধিত তেলের আরেকটি চালান আসতে পারে। এছাড়া ১০ থেকে ১২ মের মধ্যে সৌদি আরব থেকে নতুন চালান লোডিং হলে সরবরাহে আর কোনো বিঘ্ন থাকবে না। পরবর্তী চালানেও প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও তা জাহাজের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শোধনাগারটির দুটি ইউনিটে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এখানে ১৩ ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা যায়। এছাড়া বর্তমানে মজুত থাকা অপরিশোধিত জ্বালানি দিয়ে প্রায় ২৫ দিন কার্যক্রম চালানো সম্ভব।
তথ্য অনুযায়ী, এক লাখ টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করলে প্রায় ২৬ হাজার টন ডিজেল, ২৪ হাজার টন ফার্নেস অয়েল, ১৬ হাজার টন পেট্রোল, ২১ হাজার টন কেরোসিন এবং ৮ হাজার টন অকটেন উৎপাদন করা সম্ভব।
মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সাবেক মহাব্যবস্থাপক আকতার কামাল বলেন, ক্রুড অয়েল রিফাইনারিতে পৌঁছেছে এবং শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে এর প্রসেসিং শুরু হয়েছে। দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উৎপাদিত জ্বালানি তিনটি তেল কোম্পানির কাছে সরবরাহ করা হবে।
পড়ুন: ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
আর/


