দিনাজপুর প্রেসক্লাবের ৪৩ তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত। ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুর প্রেসক্লাবের ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তারা গণতান্ত্রিক চর্চায় প্রেসক্লাব সবসময় অগ্রনী ভূমিকা পালন করে আসছে।
দিনাজপুর প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারন সভায় বক্তারা বলেন গণতান্ত্রিক চর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় প্রেসক্লাবের ভূমিকা অপরিসীম। দিনাজপুর প্রেসক্লাব, শুধু সাংবাদিকদের মিলনস্থলই নয়, বরং গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবেও কাজ করে। গণতান্ত্রিক চর্চায় প্রেসক্লাবের ভূমিকা বরাবরই মূখ ছিল।
দিনাজপুরে ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুর প্রেসক্লাবের ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তারা এ অভিমত প্রকাশ করেন। শুক্রবার (৮ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরুপ বকসী বাচ্চুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলালের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সহযোগী সদস্য ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান বাবু, দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার সাজেদুর রহমান শিলু, দৈনিক নয়া দিগন্তের দিনাজপুর প্রতিনিধি অধ্যাপক সাদাকাত আলী খান, দৈনিক যুগান্তর ও বৈশাখী টেলিভিশনের দিনাজপুর প্রতিনিধি একরাম হোসেন তালুকদার, দৈনিক বণিক বার্তার প্রতিনিধি আসাদুল্লাহ্ সরকার প্রমুখ।
সভার দ্বিতীয় মূল অধিবেশনে প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল প্রেসক্লাবের বার্ষিক প্রতিবেদন ও কোষাধ্যক্ষ বিপুল সরকার সানি আয়-ব্যায়ের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এই দুটি প্রতিবেদনের উপর আলোচনায় অংশগ্রহন করেন দৈনিক জনমতের লতিফুর রহমান, ডিবিসি নিউজের মোর্শেদুর রহমান, নাগরিক টেলিভিশনের দিনাজপুর প্রতিনিধি আবুল কাশেম, দৈনিক কালের কণ্ঠের দিনাজপুর প্রতিনিধি এমদাদুল হক মিলন প্রমুখ। সর্বসম্মতিক্রমে সাধারন সম্পাদকের বার্ষিক প্রতিবেদন ও আয়-ব্যায়ের রিপোট অনুমোদন দেয়া হয়।
সভা শুরুর আগে ৩ বারের সাবেক প্রধান মন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াসহ প্রয়াত সাংবাদিক, স্বজন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ্ আলম শাহী, সহ-সভাপতি আজাহারুল আজাদ জুয়েল, যুগ্ম সম্পাদক রতন সিং, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহরিয়ার শহীদ মাহাবুব হিরু, সহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক কাশী কুমার দাশ ঝন্টু, ক্রীড়া সম্পাদক বেলাল উদ্দীন সিকদার, নির্বাহী সদস্য রিয়াজুল ইসলাম, রোস্তম আলী মন্ডল, বাবু আহমেদ বাব্বা, রফিকুল ইসলাম ফুলাল সহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন দিনাজপুর প্রেসক্লাব আলোচনা ও মতবিনিময়ের একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে বেগবান করে। দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রেসক্লাব একটি সচেতন পাহারাদারের ভূমিকা পালন করে আসছে ।বস্তুনিষ্ঠ সংবাদচর্চা,গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও নৈতিক সংবাদ চর্চা নিশ্চিত করতে প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের উৎসাহিত করে।
উল্লেখ্য ১৯৬৩ সালের দিনাজপুর প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা হলেও ১৯৮১ সাল থেকে সাংবিধানিক পহ্নায় কার্যক্রম পরিচালনা হয়ে আসছে। এক সময় মফস্বল সাংবাদিকদের সে সময়কার একমাত্র দাবি আদায়ের সংগঠন দিনাজপুর প্রেসক্লাব। যাত্রার শুরু থেকে দিনাজপুরা প্রেসক্লাব শতভাগ পেশাদারিত্ব এবং একটি মর্যাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে সব মহলে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে প্রেসক্লাব নির্মানসহ ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে যারা স্মরনীয় হয়ে থাকবেন যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, মরহুম তাহের উদ্দিন আহমেদ,কাজী জাহেদুল ইসলাম,মিজানুর রহমান লুলু,আ হ ম আব্দুল আরী,অধ্যাপক মুহম্মদ মুহসিন । এছাড়া এখনও আমাদের পাশে রয়েছেন খায়রুল আনম,বিধান কুমার দেব, মতিউর রহমান,চিত্ত ঘোষ,কামরুল হুদা হেলালসহ আরো অনেকে।আমরা তাদের সহায়তা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।


