বিজ্ঞাপন

খুলনায় ৩৩ শীর্ষ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজের তালিকা, শিগগিরই অভিযানের আভাস

দেশব্যাপী অপরাধীদের তালিকা প্রণয়নের অংশ হিসেবে খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছে র‍্যাব-৬।

বিজ্ঞাপন

তালিকায় এখন পর্যন্ত ৩৩ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনকে শীর্ষ চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ১৮ জন বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে “আনবায়াসড” বা নিরপেক্ষভাবে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে গোয়েন্দা তৎপরতা ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে এবং তালিকাভুক্তদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, তালিকায় থাকা কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।


পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত মার্চ মাসে খুলনা মহানগরের আট থানা ভিত্তিক ৪৭৫ জন অপরাধীর তালিকা তৈরি করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। ওই তালিকায় ছিল ২৮ জন চাঁদাবাজ, ৪৭ জন সন্ত্রাসী এবং প্রায় ৪০০ মাদক কারবারির নাম। এছাড়া নগরীর শীর্ষ আটটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিএনপি সরকার গঠন করার পর সারাদেশে অপরাধীদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনা অনুযায়ী অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।


র‍্যাব-৬ খুলনার অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে অপরাধীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আলাদা কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক ক্যাটাগরি করা হয়নি। তালিকায় কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পেলেই তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে।
যদিও ঈদুল ফিতরের পর যৌথ অভিযান চালানোর কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে তেমন কোনো দৃশ্যমান অভিযান হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় নগরজুড়ে মাদক বিস্তার, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বেড়েছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। মহানগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অভিযোগ, তালিকা তৈরির ঘোষণা এলেও অভিযানের বাস্তব চিত্র চোখে পড়ছে না। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রায় দিনই কোন না কোন খুনের ঘটনা ঘটছে।


খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, খুলনায় অপরাধ দমনে কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। শুধু তালিকা তৈরি করে জনগণকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে, কিন্তু অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কাছে অপরাধীদের অবস্থান অজানা নয়। ইচ্ছা করলে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে অভিযান না চালিয়ে তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে অপরাধীদের আগাম সতর্ক করা হচ্ছে বলেও অনেকে মনে করছেন।


খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, নগরীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কেএমপি নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি বলেন, কোনো অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কেএমপি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

পড়ুন- গুম-খুনের রাজনীতি থেকে বের হয়ে নতুন দেশ গড়ার প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন