বিজ্ঞাপন

নোয়াখালীতে এসিল্যান্ড-তহশিলদারসহ ৯জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় খতিয়ান খুলতে ঘুষ দাবি, দলিলের তফসিল জাল এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) রুবাইয়া বিনতে কাসেম এবং বসুরহাট পৌর ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. সাইফুল ইসলামসহ ৯জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৮ এপ্রিল নোয়াখালীর সিনিয়র স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর হাজারী গ্রামের মৃত আবদুর রবের ছেলে মো. আরিফুর রহমান।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির হারাধন চন্দ্র পাল, সাবেক সার্ভেয়ার মোস্তফা কামাল, সেটেলমেন্ট অফিসের সাবেক সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র দাস, বেঞ্চ সহকারী আবুল কাসেম, সার্ভেয়ার উত্তম কুমার দাস, দলিল লেখক সাইফুল ইসলাম ও জনৈক ওবায়দুল হক।

বাদীর অভিযোগে জানা যায়, দেওয়ানী মামলা নং ১৫৩/২০২৩-এর রায় ও ডিক্রির ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ১৮ মে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ১৪৩ ধারায় খতিয়ান সংশোধনের আবেদন করেন তিনি। এ প্রেক্ষিতে তহশিলদার সাইফুল ইসলাম শুনানি ও দখল তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে সার্ভেয়ার পর্যায়ক্রমে তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১২ মার্চ পৃথক খতিয়ান সৃজনের সুপারিশ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, তদন্তে সব কিছু অনুকূলে পাওয়ার পরও তহশিলদার দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। স্থানীয় তিনজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে তাকে এক লাখ টাকা দেওয়া হয় এবং বাকি এক লাখ টাকা কাজ শেষে দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে ওই আবেদনের শুনানী ও দখল তদন্ত করে মামলার রায় শেষ হয়েছে মর্মে দাবিকৃত ঘুষের বাকি এক লাখ টাকা প্রদানে চাপ প্রয়োগ করেন তহশিলদার। কিন্তু ঘুষের টাকা না দেওয়া একই মামলা পুনরায় শুনানীর মাধ্যমে হয়রানী শুরু করে সংঘবদ্ধ ওই চক্র।

অভিযোগে আরো বলা হয়- একই ব্যক্তির নামে গোপনে পৃথক আরেকটি ই-নামজারির আবেদন করে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ এসিল্যান্ড ওই আবেদনটি নামঞ্জুর করে দেন। নামঞ্জুরের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বাদীপক্ষ মালিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিল উপস্থাপন করতে পারেননি। যা বাদীর দাবি অনুযায়ী সত্য নয়। অভিযোগে বলা হয়- ভূমি অফিসের খসড়া খতিয়ানের মন্তব্যের কলামে দেওয়ানী ১৫৩/২০২৩ এর রায় ডিক্রির আলোকে খতিয়ানটি প্রকাশিত হয়। যা শুনানী ও দখল তদন্তে ১৪৩ বিধিতে মালিকানা সত্য বলে উপস্থাপন করা হয়।

আরিফুর রহমানের অভিযোগ, তাদের রায় এবং ডিক্রির বিরুদ্ধে কোন আপিল/ছানি মামলা হয়েছে কিনা তা জানতে আদালত থেকে পর্যায়ক্রমে ৭ বার চাচিং করা হলেও কোন আপিল/ছানি মামলা পাওয়া যায়নি। তার পরও তহশিলদার তাকে এসিল্যান্ডের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। সাক্ষাতে এসিল্যান্ড বাকি এক লাখ টাকা দিলে অনুকূলে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আশ্বাস দেন। একই দাবিতে নাজির এবং তহশিলদারও চাপ প্রয়োগ করেন। ঘুষের টাকা না দিলে ফাইল নিষ্পত্তি করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়- ঘুষের বাকি টাকা না দেওয়ায় তার ডিক্রিকৃত জমির তফসিল জাল করে জনৈক ব্যক্তি ওবায়দুল হকের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে তার নামে জমাখারিজ খতিয়ান সৃজন করেন এসিল্যান্ড । উপজেলা সেটেলম্যান্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আতাঁত করে ভূমি অফিসের এই অসাধু কর্মকর্তারা সৃজিত জাল নামজারির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিদের বিডিএস খতিয়ানের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিল করে ভূমির মালিকানা দাবি করছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরিফুর রহমান আরও বলেন- পাশ্ববর্তী জেলার সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ মৌজার তফসিলের ভূমি কোম্পানীগঞ্জের চর হাজারী মৌজার তফসিলে জাল করে নামজারি খতিয়ান সৃজন, সরকারি নথি গায়েব করা, আদালতের তলব থাকা সত্ত্বেও নথি দাখিল না করা, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় আত্মীয়স্বজনের নামে নামজারি, সরকারি জমি অবৈধভাবে রেকর্ড করে দেওয়া, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া’সহ নানা অভিযোগের প্রমাণ সংযুক্ত করে তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ১২ ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ঘুষ না দেওয়ায় তার ক্ষতি করা হয়।

ভুক্তভোগী আরিফুর রহমান বলেন- আসামিদের বিরুদ্ধে তিনি আদালতে মামলা করার পর থেকে মামলা তুলে নিতে তাকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন আসামিরা। মামলার তদন্তপূর্বক দ্রুত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

এদিকে, সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস, বসুরহাট পৌর ভূমি অফিস এবং উপজেলা সেটেলম্যান্ট অফিসে সংশ্লিষ্ট নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে- বসুরহাট ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে করা মামলার সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাসেম.বলেন- অভিযোগকারীর মামলাটি আমি এই কর্মস্থলে যোগদানের পূর্বে ২০২৪ সালে করা। আমি এখানে যোগদানের পর সরকারি বিধি মোতাবেক মামলার শুনানীর সময় বাদীপক্ষ মালিকানার স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ই-নামজারির আবেদনটি নামঞ্জুর করা হয়। ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন- আমার অফিসে সব ধরনের অনৈতিক আর্থিক লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদালাতে দায়ের করা মামলার সব অভিযোগ মিথ্যা বলেও দাবি করেন এই কর্মকর্তা।

পড়ুন- বঙ্গোপসাগরে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল ভারত

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন